১০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ১০টি ব্যবসা আইডিয়া (ব্যবসায়ী উদ্যোগ)

ব্যবসা আইডিয়া: বাংলাদেশের মধ্যে যেই হারে প্রতিবছর হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ পাশ করছে। সেই হারে চাকরির সুযোগ না থাকায় দিন দিন বেকারত্ব বেড়ে চলেছে। এমন পরিস্থিতি জবের পিছনে ছুটাছুটি করে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে, জেনে নিন ১০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ১০টি ব্যবসা আইডিয়া সম্পর্কে এবং নিজেই হয়ে উঠুন একজন উদ্যোক্তা। 

আমাদের এই ওয়েবসাইটে আমরা পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ টাকার ব্যবসা আইডিয়া শেয়ার করব। যেগুলো শুরু করে আপনি প্রতিমাসে কম পক্ষে ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নি ১০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ১০টি ব্যবসা আইডিয়া সম্পর্কে। 

 

ঝাল মুড়ি বিক্রির ব্যবসা আইডিয়া

দেখুন ব্যবসা হওয়া উচিত এমন ব্যবসা যেই ব্যবসার চাহিদা সব সময় সর্বত্র রয়েছে। অথবা এমন ব্যবসা যেই ব্যবসা থেকে আপনি মাসিক, সাপ্তাহিক অথবা দৈনিক কিছু না কিছু অর্থ আয় করতে পারবেন। তাই আমাদের আজকের ব্যবসা আইডিয়ায় আমরা একটি ফুটপাতে ব্যবসা আইডিয়া শেয়ার করব আর তাহলো ঝাল মুড়ি বিক্রির ব্যবসা। এই ব্যবসা ১০ হাজার টাকার মধ্যে শুরু করা যাবে এবং এর চাহিদদা শহর কিংবা গ্রাম সবত্র বিদ্যমান রয়েছে।

ঝাল মুড়ি ব্যবসা আইডিয়া

ঝাল মুড়ি ব্যবসা করে কত টাকা আয় সম্ভব?

যেকোন ব্যবসা কিংবা কাজের শুরুতে আমরা সর্বপ্রথম ইনকামের চিন্তা করি আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ আমরা ইনকামের জন্যই কাজ করে থাকি। দেখুন ঝাল মুড়ি ব্যবসা একটি লাভ জনক ব্যবসা। অনেক শিক্ষিত ব্যক্তির কাছে এই ব্যবসা অস্মানের মনে হতে পারে। কিন্তু যাদের কাছে দিন শেষে পড়ালেখা ও পরিবার বড় হয় তাদের কাছে সব কাজকেই সমান হয়। 

আরোও পড়ুন: পুঁজি ছাড়া সেরা ১০টি ব্যবসা আইডিয়া 

যাইহোক, শুরুতে যেটা বললাম। ঝাল মুড়ি ব্যবসা একটা লাভ জনক ব্যবসা। আপনি যদি স্থান বা জয়গা বুঝে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন তাহলে আপনি প্রতিমাসে সর্বনিম্ম ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। টাকার অংকের পরিমান দেখে অনেকের কাছে অবিশ্বাস যোগ্য মনে হলেও কিন্তু এটাই সত্যিই। আপনি যদি ইউটাউবে গিয়ে সার্চ করেন “ঝাল মুড়ির ব্যবসা করে কত টাকা আয় সম্ভব?” তাহলে আপনি এটা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মুখ থেকেই অনেক রেফারেন্স পেয়ে যাবেন। 

 

কিভাবে শুরু করবেন ঝাল মুড়ি ব্যবসা?

ঝাল মুড়ি ব্যবসার শুরুতে একটি সঠিক স্থান বেছে নেওয়া সবচেয়ে জরুরি। কেনান একটি সঠিক স্থানের উপর নির্ভর করবে আপনি দৈনিক কত টাকা আয় করবেন। তাই ঝাল মুড়ি বিক্রির জন্য বড় মার্কেট, গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি, স্টেডিয়াম, পার্ক, দর্শনীয় স্থান, সমুদ্র সৈকত, বাস স্ট্যান্ড, মেলা ও ওয়াজ মাহফিল স্থান হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। তবে এছাড়াও যেসব জায়গায় দৈনিক হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত রয়েছে এমন স্থানকেও নির্বাচন করতে পারেন। 

ঝাল মুড়ি বিক্রির জন্য একটি উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের পর এবার খাবার বা প্রডাক্টে নজর দিতে হবে। আপনি যদি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কোন বিক্রেতার কাছ থেকে ট্রেনিং নিতে পারেন। অথবা ইউটিউব দেখে দেখে সুস্বাদু ঝাল মুড়ির মসলা তৈরি করতে পারেন। 

উপকরণ: ঝাল মুড়ি বিক্রির জন্য কিছু উপকরণ প্রয়োজন হবে যেমন: একটি টুলস, বড় টেই, ঝগ, চামচ, পাতিল বা প্লাস্টিকের ঝার ইত্যাদি। এছাড়াও আপনি চাইলে দু একটা ইউটিউব ভিডিও দেখতে পারেন। অথবা বাজারের মুড়ের ঝাল মুড়ি কাকু থেকে ১০ টাকার ঝাল মুড়ি খেতে খেতে তার সমস্ত উপকরণ নোট করে নিতে পারেন। 

 

কম বাজেটের ব্যবসা আইডিয়া

কাঁচা তরকারির ব্যবসা আইডিয়া

আপনার কাছে যদি কম পক্ষে ১০ হাজার টাকা থাকে তাহলে আপনি কাঁচা তরিতরকারি বিক্রি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। নিকটস্থ কোন তরকারির আড়ত থেকে কাঁচা তরকারি ও সবজি পাইকারিতে কিনে এনে স্থানীয় মার্কেট বা গ্রামে গ্রামে সাইকলে চালিয়ে বা হেটে হেটে বিক্রি করতে পারেন। এতেও অনেকটা লাভবান হতে পারবেন। তবে আপনি যেহেতু কাঁচা তরকারির ব্যবসা করবেন, তাই একটু সর্তক থাকবেন। যেন তরকারি গুলো সঠিক সময়ে বিক্রি হয়ে যায়। এতে লোকশান হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। 

আপনি যদি প্রতিদিন ১০০-১৫০ কেজি কাঁচা তরকারি বিক্রি করতে পারেন এবং এভারেজে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে লাভ খেতে পারেন। তাহলে দৈনিক আপনার লাভ থাকবে ১০*১০০= ১০০০ টাকা। অর্থাৎ মাসে ৩০ হাজার টাকা আর আপনি যদি প্রতি কেজিতে ৫ টাকা করে লাভ খান তাহলে মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। 

বলাবাহুল্য দৈনিক ১০০-১৫০ কেজি তরকারি বিক্রি করার জন্য একটি বড় মার্কেটে বা গার্মেন্টসের সামনে বিক্রি করতে পারেন। এতে বিক্রি ভালো হবে। ১০০ কেজি তরকারি বিক্রি করা কোন ব্যাপার না। মাত্র পুরোদিনে ১০০ জন বেক্তি ১ কেজি করে তরকারি নিলে ১০০ কেজি বিক্রি হয়ে যাবে। আর এই ব্যবসা শুরু করতে একটি দাঁড়িপাল্লা বা মিটার যন্ত্র কিনে খুব সহজে শুরু করতে পারবেন।

 

অল্প পুঁজির ব্যবসা আইডিয়া

মাছ বিক্রির ব্যবসা আইডিয়া

জনপ্রিয় ব্যাবসায় আইডিয়া গুলোর মধ্যে আরেকটি জনপ্রিয় ব্যবসা আইডিয়া হলো মাছ বিক্রির ব্যবসা। খুব কম সময়ে বেশি বিক্রি ও অধিক লাভবান হতে মাছ বিক্রির ব্যবসা শুরু করতে পারেন। শুরু দিকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ৫০-১০০ কেজি মাছ ক্রয় করে সেগুলো মার্কেটে অথবা বাসা বাড়িতে বিক্রি করে দিতে পারেন। তবে প্রথম দিকে ১০/১৫ কেজি মাছ দিয়ে শুরু করুন। কেননা প্রথম দিকে মাছ বিক্রির ব্যবসা আইডিয়া বুঝতে হবে। তা নাহলে শুরুতে লসের সম্মুখীন হতে পারেন। তাই কম থেকে আস্তে আস্তে ব্যবসা বড় করতে পারবেন। 

মাছ বিক্রির ব্যবসা অনেক বেশি আয় করা সম্ভব। প্রতি কেজি মাছে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনার এরিয়ার মানুষের পছন্দের মাছ সম্পর্কে খোঁজ খবর নিন। কেননা একেক অঞ্চলের মানুষের কাছে একেক রকমের মাছ জনপ্রিয় হয়ে থাকে। তাই গ্রাহকের চাহিদা ও কম টাকার মধ্যে মাছ গুলো দিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন যেমন: পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, সরপুঁটি ইত্যাদি। 

 

ফল বিক্রি ব্যবসা আইডিয়া

কোথাও বেড়াতে যেতে, বিয়ে বাড়ি, অনুষ্ঠান, জন্মদিন, অসুস্থ রোগীকে দেখতে যেতে অথবা নিজেদের খাবার প্রয়োজনে আমরা কম বেশি ফল কিনে থাকি। তাই বলা যায় ফল বিক্রির ব্যবসা শুরু করলে খুব সহজে লাভবান হতে পারবেন। শুরুর দিকে নিকটস্থ আড়াত থেকে ২/৩ রকমের ফল পাইকারিতে ক্রয় করে সেগুলো বিক্রি করতে পারেন। পরবর্তীতে চাইলে এ ব্যবসা বড় করতে পারেন। ফল বিক্রি করে কেজি প্রতি ১০-২০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। বাসা বাড়িতে গিয়ে অথবা নিকটস্থ কোন বড় মার্কেটের ফুটপাতে বসে এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। 

যারা নতুন তাদের জন্য একটি টিপস হলো। আপনি যখন ফল ক্রয় করবেন তখন কম দামের ফল ক্রয় করবেন। এবং আড়ত থেকে ভাঙ্গা ক্যারটের ফল গুলো কিনার চেষ্টা করুন। এই জন্য খুব ভোরে ভোরে আড়তে চলে যান। কেননা আড়তে যখন গাড়ি থেকে ফল গুলো নামানো হয় তখন কিছু ক্যারেট ভাঙ্গে যায় বা রাস্তায় ভাঙ্গা অবস্থায় থাকে। যেগুলো আড়ত মালিক নিলামে বা কম দামে বিক্রি করে দেয়। সেগুলো আপনি কম টাকায় কিনে এনে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। 

 

খাবার তৈরির ব্যবসা আইডিয়া

যারা কুকিং করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য ১০ হাজার টাকা বাজাটের সেরা একটা ব্যবসা আইডিয়া হলো খাবার তৈরির ব্যবসা। অর্থাৎ বাসায় বেকারি খাবার তৈরি করে সেগুলো বিক্রি করা। আপনি চাইলে ১০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। প্রথম দিকে যেকোন একটি খাবার যেমন: রুটি, কেক, আঙ্গুলী, পেডিস, চিপস, চানাচুর, বিস্কুট, নাড়ু, গোলাপ জম, লাডডু, হাওয়াই মিঠাই, ক্ষই ভাজা, শনপাড়ি ইত্যাদি দিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। 

কিছু খাবার চুলায় আবার কিছু খাবারের জন্য ওভেন প্রয়োজন হতে পারে। তবে চিন্তার কারণ নেই ৪-৫ হাজার টাকার মধ্যে একটি ভালো ওভেন ও ১৫০০-২০০০ হাজার টাকার মধ্যে একটি বিস্কুট মেকার কিনে নিতে পারেন এবং বাকি টাকায় উপকরণ কিনে বিস্কুট তৈরির বা ওভেনে কেক তৈরির মতো ব্যবসা শুরু করতে পারেন। 

এ ধরনের ব্যবসায় অনেক বেশি লাভবান হতে পারেন এবং এই ধরনের ব্যবসার বিক্রিও ভালো। আপনি নিকটস্থ হোটেল, মুদি দোকান বা চা দোকানে পাইকারি সেল বা ফুটপাতে বসে খুচরা ও পাইকারিতে বিক্রি করতে পারেন। প্রতিটি প্রডাক্টে ৩-৫ টাকা বা এর বেশি আয় করতে পারবেন। আর যদি পাইকারিতে বিক্রি করতে পারেন তাহলে ধারণা করা যায় মাসে ২০-৫০ হাজারের বেশি আয় করতে পারবেন। 

 

দালালী ব্যবসা আইডিয়া

বিনা কষ্টে ইনকামের সেরা একটি উপায় হলো দালালী ব্যবসা। দালালী কথাটা শুনে অনেকের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে। অথবা অনেকে দালালী করাকে হারাম মনে করতে পারেন। যা মোটেও ঠিক নয়। কেননা এখানে আমি অবৈধ কোন দালালীর ব্যবসার কথা বলছি না। এখানে আমি একটি বৈধ বিজনেস আইডিয়া শেয়ার করছি। 

এটি একটি বিনা পরিশ্রমের ব্যবসা যেমন: আপনি ১০ হাজার টাকা দিয়ে আপনার এলাকায় হেটেহেটে নারকেল ও সুপারি একটু কম দামে কিনে নিবেন। তারপর সেগুলো বেশি দামে শহর অঞ্চলে সেল করে দিবেন। অথবা নিকটস্থ কোন এলাকায় বা আড়তে যেখানে কিনা দামের চেয়ে একটু বেশি দাম পাওয়া যায় সেখানে বিক্রি করে দিতে পারেন। এছাড়াও মানুষ বিপদকালীন সময় বিভিন্ন দামী জিনিস কম দামে বিক্রি করে দেয়। যেমন: স্বর্ণ গয়না, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, আসবাব পত্র, মোবাইল, ফ্রিজ, টিভি, সাইকেল  ইত্যাদি। 

আপনি সুযোগ বুঝে সেসব জিনিস কম দামে কিনে ছওড়া দামে বিক্রি করতে পারেন। তবে এত বেশি লাভ করতে যাবেন না যেন সেটা হারাম হয়ে যায়। এখানে ছওড়া দাম বলতে মোটামুটি অন্য মানুষের সাধ্যের মধ্যে বিক্রি করার চেষ্টা করুন। তাহলে এটিও অন্য সব ব্যবসার মতো হলাল হবে। অর্থাৎ আপনার জিনিস আপনি বেশি দামে বিক্রি করলেন কেউ নিলে অব্যশই জেনে শুনে বেশি দামে নিবে। এখানে আপনার দোষের কিছু নেই।

তবে কোন কথা গোপন করা বা মিথ্যে বলে পণ্য বিক্রি করা যাবে না। আপনি ক্রেতাকে সরাসরি বলতে পারেন। যে এটাই আমার ব্যবসা। মানু্ষ বিপদে পড়ে জিনিস বিক্রি করে। আমি সেগুলো ক্রয় করে আমার নিজের দামে সেল করি। আপনার পছন্দ হলে নিতে পারেন নাও নিতে পারেন। এমন কথা বলে পণ্য বিক্রি করলে অব্যশই সেই পণ্য/অর্থ হারাম হবে না। ইনসাআল্লাহ্।

 

কম টাকার ব্যবসা আইডিয়া

কসমেটিক ব্যবসা আইডিয়া

আজকাল নারী পুরুষ প্রায় সবাই চাকরির পিছনে দৌড়াদৌড়ি করে। তাই তাদের ২০/৫০ টাকার কসমেটিক কিনতে মার্কেটে যাওয়ার সময় থাকে না। অথবা একটি কসমেটিক কিনতে মার্কেটে যাবে এমন চিন্তা ভাবনা থাকে না। আপনি চাইলে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ১০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে পাইকারি মার্কেট থেকে কসমেটিক কিনে সেগুলো মানুষের দৌর গোড়ায় পৌছে দিতে পারেন। অথবা মার্কেট, ফুটপথ, বাসস্ট্যান্ড ইত্যাদি জাগায় কসমেটিক বিক্রির করে লাভবান হতে পারেন। 

 

জামা কাপড়ের ব্যবসা আইডিয়া

কসমেটিকের মতো কম দামে বিভিন্ন জামা কাপড় বিক্রি করেও ভালো টাকা আয় করা যাবে। পাইকারিত জামা কাপড় কিনে অথবা গার্মেন্টসের রিজেক্ট জামা কাপড় কিনে কম দামে বিক্রি করতে পারেন। মানুষ সব সময় স্তার মধ্যে ভালো কিছু খুঁজে। তাই আপনি যদি তাদের সাধ্যের মধ্যে ভালো কিছু দিতে পারেন তাহলে সেই ব্যবসা থেকে ভালো অর্থ আয় করতে পারবেন। আপনি চাইলে, জুতা, শীতকালন পোষাক, বাচ্চাদের পোষাক ইত্যাদি। যেকোন একটি পণ্য দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং মাস শেষে একটি ভালো অর্থ আয় করতে পারবেন। 

 

জুতা বিক্রির ব্যবসা আইডিয়া

১০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে জুতা বিক্রির ব্যবসা শুরু করতে পারেন। অথবা নিজে নিজে ক্যাঙ্গারু জুতা তৈরির কারখানা তৈরি করতে পারেন। ক্যাঙ্গারু জুতা তৈরি করা একদম সহজ কাজ এবং কম বাজেটের মধ্যে শুরু করতে পারবেন। এই ধরনের জুতার মার্কেটে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ক্যাঙ্গারু জুতা কি বা কিভাবে এই ব্যবসা শুরু করবেন জানতে ইউটিউবে দেখুন। আশা করি বুঝতে পারবেন। 

 

হাঁস মুরগি পালন ব্যবসা আইডিয়া

হাঁস মুরগির পালন ব্যবসা আইডিয়া

১০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে বাড়িতে ছোটখাটো একটি হাঁস মুরগির খামার তৈরি করতে পারেন। যেখানে ছোট ছোট হাঁস মুরগির বাচ্চা লালন পালন করে বড় করে বিক্রি করতে পারবেন। হাঁস পালনের জন্য পুকুরের ওপর ঘর করে সেখানে খামার করতে পারেন। অথবা পুকুর না থাকলে রাস্তার পাশে সরকারি খাল, বিল, ডোবা ইত্যাদিকে কাজে লাগাতে পারেন। আর মুরগি পালনের জন্য আলো বাসাত যুক্ত একটি পরিবেশ নিবার্চন করতে পারেন। 

তবে এসব ব্যবসা লং টাইম ও একটু রিক্সি ব্যবসা। এ ধরনের ব্যবসা করে ৩/৬ মাস পরপর টাকার পয়সার মুখ দেখবেন। অন্যদিকে একটু সচেতন হয়ে না চললে হাঁস-মুরগি মরে ব্যবসায় লস হতে পারে। তাই ব্যবসা শুরু পূর্বে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। তবে বলাবাহুল্য এসব ব্যবসায় অনেক বেশি আয় করা যায়। 

ধরুণ আপনি একটি মুরগির বা হাঁসের বাচ্চা ২০ টাকা পিস ক্রয় করলেন। ২/৩ মাস পর প্রতিটা মুরগির বাচ্চার খাবার ও ঔষধ খরচ সহ গড়ে ৬০/৭০ টাকা করে খরচ হলো। তাহলো ১০০ টি মুরগি/হাঁসের বাচ্চার জন্য মোট খরচ হলো ১০০*৬০/৭০ টাকা অর্থাৎ ৬/৭ হাজার টাকা। ২/৩ মাস পর যদি প্রতিটি হাঁস/মুরগি বাচ্চা ১ কেজি হয় এবং প্রতিকেজি মুরগির দাম হয় ১৫০ টাকা। তাহলে ১০০টি মুরগির বিক্রি হবে ১০০*১৫০=১৫ হাজার টাকা। সুতারং আপনি যদি একটু বড় পরিসরে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন তাহলে মূল খরচের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি লাভ করতে পারবেন। 

 

ফুটপাতে খাবার তৈরির ব্যবসা আইডিয়া

১০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে ঝাল মুড়ির মতো ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি করে অনেক বেশি লাভবান হতে পারবেন। যেমন: চটপটি, ফুচকা, হালুয়া রুটি, মামা হালিম ইত্যাদি। অব্যশই এ ধরনের ব্যবসা শুরু করার পূর্বে সঠিক স্থান বেছে নিবেন। যেটা ঝাল মুড়ির ব্যবসা আইডিয়ায় শেয়ার করা হলো। তাহলে খুব বেশি আয় করতে পারবেন। এবং শুরু দিকে লাভের দিকে না তাকিয়ে খাবার কোয়ালিটি বা কাস্টমার সেটিসফেকশনে নজর দিন। তাহলে এই ব্যবসায় সফল হতে পারবেন। 

দশ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে অন্যান্য ব্যবসা আইডিয়া সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন। এছাড়াও কমেন্টে আপনার বাজেটের কথা আমাদের জানাতে পারেন। আমরা আপনার জন্য সেরা ব্যবসা আইডিয়াটি শেয়ার করব। ধন্যবাদ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 Comment