NID কার্ড ভুল সংশোধনের নিয়ম ২০২৪ | services nidw gov bd

NID কার্ড ভুল সংশোধনের নিয়ম ২০২৪ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে আজকের পোস্টে। আপনাদের যাদের NID কার্ডে নিজ নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, বয়স ও ঠিকানা ইত্যাদি তথ্যে ভুল রয়েছে। তারা চাইলে খুব সহজে অনলাইনে nid কার্ড সংশোধন করে নিতে পারবেন। এই পোস্টে NID কার্ড ভুল সংশোধনের নিয়ম বর্নণা করা হলো। 

 

NID কার্ড ভুল সংশোধনের নিয়ম 

অনলাইনে NID কার্ড ভুল সংশোধন করতে services.nidw.gov.bd এই ঠিকানায় চলে আসুন। তারপর আপনার nid তথ্য দিয়ে একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন এবং প্রোফাইল এডিট অপশন থেকে ভুল তথ্য পরিবর্তন করে nid ভুল সংশোধনের আবেদন সম্পন্ন করুন। 

 

NID কার্ড ভুল সংশোধনের আবেদন

জাতিয় পরিচয়পত্র বা NID একজন নাগরিকের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট। তাই nid ভুল সংশোধন করা খুবই জরুরি। আপনাদের যাদের Nid কার্ডে নিজ নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, ব্যক্তিগত ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য ভুল রয়েছে। তাদের উচিত জরুরি ভিত্তিতে সেই ভুল সংশোধন করে নেয়া। আবার অনেকের জন্ম নিবন্ধন ও সার্টিফিকেটের সাথে এনআইডি কার্ডের অমিল পাওয়া যায়। যা ব্যক্তিগত জীবনে হুমকিস্বরুপ। তাই চলুন জেনে নেওয়া  যাক কিভাবে NID কার্ডের ভুল সংশোধনের আবেদন করবেন। 

অনলাইনে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করার জন্য কম্পিউটার অথবা মোবাইলের যেকোনো একটি ব্রাউজার থেকে চলে আসুন services.nidw.gov.bd এই ঠিকানায়। সারাসরি আসতে এখানে ক্লিক করুন। তাহলে আপনি এরকম একটি ইন্টারপেইজ দেখতে পাবেন। 

NID কার্ড ভুল সংশোধনের নিয়ম ২০২৪

এখন আপনার যদি পূর্বে এই সাইটে একাউন্ট করা থাকে তাহলে নিচে থেকে লগইন করে নিন। আর যদি ইতিমধ্যে জাতিয় পরিচয়পত্র আছে কিন্তু একাউন্ট নেই তাহলে ‘রেজিস্টার করুন’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সামনে একটি ফর্ম খুলে যাবে। এখন প্রথম ঘরে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা ফর্ম নম্বর দিয়ে দিন। তারপর জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম তারিখ, মাস ও বছর বসিয়ে নিচে থেকে ক্যাপসাটি পূরণ করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন। 

আরোও পড়ুন: Student অবস্থায় টাকা আয় করার সহজ ৭টি উপায়

সাবমিট বাটনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন অপশন চালু হয়ে যাবে। এখন আপনার মোবাইল নম্বর বসিয়ে ‘বার্তা পাঠান’ অপশনে ক্লিক করলে আপনার ফোনে ৬ সংখ্যার একটি OTP কোড যাবে। কোডটি সংগ্রহ করে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন। এরপর এবটি ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ‘বহাল’ বাটনে ক্লিক করার সাথে সাথে আপনার একটি একাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে। এখন একাউন্টে লগইন করে নিন। একাউন্টে লগইন করার পর আপনি ড্যাশবোর্ডে ৪টি অপশন দেখতে পাবেন। যেমন:

  • প্রোফাইল
  • রিইস্যু
  • পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং
  • ডাউনলোড

যেহেতু আপনি NID কার্ডের ভুল সংশোধনের আবেদন করবেন। তাই সবার প্রথম অপশন অর্থাৎ প্রোফাইলে ক্লিক করুন। প্রোফাইলে ক্লিক করার পর আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সকল তথ্য গুলো দেখতে পাবেন। এখন NID কার্ড ভুল সংশোধন করতে ‘এডিট’ অপশনে ক্লিক করুন। এখন আপনি যেই তথ্য সংশোধন করতে চান তার উপরের চেক বক্সে টিকমার্ক দিয়ে দিন। তাহলে আপনি সেই তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন। 

জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য পরিবর্তন

আপনি চাইলে একই সাথে একাধিক তথ্যের পরিবর্তন করতে পারবেন। এতে কিন্তু সার্ভিস সার্চ একবারেই দিতে হবে। কিন্তু আপনি যদি প্রত্যেক বার আলাদা আলাদা করে NID কার্ড ভুল সংশোধনের আবেদন করেন। তাহলে প্রত্যেকবার ৩৪৫ টাকা করে সার্ভিস চার্জ দিয়ে ভুল সংশোধন আবেদন করতে হবে। 

তথ্য গুলো পরিবর্তন করা হয়ে গেলে এখন উপর থেকে ‘পরবর্তী’ বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনি কি কি তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করছেন সেটি দেখতে পাবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আবারও ‘পরবর্তী’ অপশনে ক্লিক করুন। পরবর্তীতে ক্লিক করার পর এই পর্যায়ে আপনাকে NID কার্ড সংশোধন ফি ৩৪৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে। 

 

NID কার্ড ভুল সংশোধন ফি পরিশোধ করার নিয়ম 

এখন NID ভুল সংশোধন ফি ৩৪৫ পরিশোধ করার জন্য। আপনার ফোন থেকে বিকাশ অ্যাপটি খুলুন। তারপর আপনার বিকাশ নম্বর ও পিন দিয়ে লগইন করুন। এখন ড্যাশবোর্ড থেকে পে বিল (Pay bill) অপশনে ক্লিক করুন। তারপর একটু নিচে স্ক্রোল করে NID Service অপশনে ক্লিক করুন।

NID সংশোধন ফি পরিশোধ

তারপর আবেদনের ধরন হিসেবে Both info correction সিলেক্ট করুন এবং নিচে আপনার সংশোধিত NID নম্বরটি দিয়ে দিন। তারপর নিচে থেকে ‘পে বিল করতে এগিয়ে যান’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সামনে সংশোধন ফি ৩৪৫ টাকা দেখাবে এখন পেমেন্ট সম্পন্ন করার জন্য ‘পরের ধাপে যেতে ট্যাপ করুন’ অপশনে ক্লিক করে বিকাশ পিন দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন। 

 

NID কার্ড ভুল সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সমূহ

পেমেন্ট করা হয়ে গেলে এবার আবারও পূর্বের ওয়েবসাইটে ফিরে আসুন এবং পেইজটি একবার রিফ্রেশ করে নিন। অথবা পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার একাউন্টে সংশোধিত ফি যুক্ত হয়ে যাবে। এখন বিতরনের ধরন নির্বাচন করুন। Regular অথবা Regular smart card। 

NID কার্ড ভুল সংশোধনের নিয়ম ২০২৪ | services nidw gov bd

Regular হচ্ছে প্লাস্টিকের লেমেন্ডিশন করা কার্ড আর Regular smart card হচ্ছে প্লাস্টিকের স্মার্ট কার্ড। আপনি চাইলে Regular সিলেক্ট করতে পারেন। তারপর পরবর্তী অপশনে ক্লিক করুন। এপর্যায়ে আপনাকে NID সংশোধনের জন্য আনুষাঙ্গিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবমিট করতে হবে। যেমন: আপনি যদি নিজের নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে ডকুমেন্ট হিসেবে আপনার জন্ম নিবন্ধন কপি ও স্কুল সার্টিফিকেট সাবমিট করতে হবে। 

আপনি যদি রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করতে চান। তাহলে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা মেডিকেল রিপোর্ট সাবমিট করতে হবে। একই সাথে পেশা পরিবর্তনের জন্য সার্টিফিকেট এবং কাজের আইডি কার্ডের কপি সাবমিট করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন প্রতিটি ফাইলের সাইজ সর্বোচ্চ ১ মেগাবাইটের বেশি করা যাবে না এবং ফাইলের ধরন png, jpg এবং pdf হতে হবে। আশা করি বুঝাতে পেরেছি কোন ডকুমেন্টের জন্য কোন কোন ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। তারপরেও যদি কোন ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয় তাহলে নির্বাচন কমিশন থেকে আপনাকে SMS করে জানিয়ে দেওয়া হবে। 

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গুলো আপলোডের পর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনি আবারও আপনার সকল ডকুমেন্ট গুলো দেখতে পাবেন। এখন সব কিছু দেখে শুনে সঠিক মনে হলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। তারপর আবারও প্রোফাইল বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনি দেখতে পাবেন। আপনার একটি অ্যাপ্লিকেশন পেন্ডিং রয়েছে এই টেক্সটি শো করছে। তারমানি আপনার আবেদনটি সঠিকভাবে সাবমিট করা হয়ে গেছে। 

আপনার একটি অ্যাপ্লিকেশন পেন্ডিং রয়েছে

এখন ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে সংশোধিত ফর্মটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন। তারপর ফর্মটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন। পরবর্তীতে যখন সংশোধিত NID কার্ড সংগ্রহ করবেন। তখন এই ডকুমেন্টি প্রয়োজন হতে পারে। এটি ছিল NID কার্ড ভুল সংশোধনের নিয়ম। আপনি NID কার্ডের যেই ভুল সংশোধন করেন না কেনো এই নিয়মটি ফলো করতে হবে। 

আবেদন করার সাথে সাথে আবেদনটি নির্বাচন কমিশন অফিসে চলে যাবে। যদি সব ডকুমেন্ট ঠিক থাকে তাহলে খুব কম সময়ে অনুমোদন পেয়ে যাবেন। আর যদি ডকুমেন্টে কোন ধরনের ভুল থাক তাহলে সংশোধন হতে দেরি হতে পারে বা আবারও নতুন করে ডকুমেন্ট আপলোড করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই সব সময় মোবাইলে নজর রাখুন। NID কার্ড ভুল সংশোধন হয়ে গেলে পরবর্তীতে এই ওয়েবসাইটে ঠুকে আপনি সংশোধিত NID কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। 

কিন্তু যদি দেখেন দীর্ঘদিন ধরে আবেদন Pending আছে কোন SMS ও আসেনি। তাহলে আপনি উপজেলা নির্বাচন কমিশন হেল্প লাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন। তারা সমাধান দিয়ে দিবে। অব্যশই যার NID তাকেই ফোন করতে হবে। অন্যথায় কোন সাহায্য পাবেন না। 

 

NID কার্ড ভুল সংশোধন সম্পর্কিত FAQ

  • প্রশ্ন: পিতা/মাতা/স্বামী/স্ত্রী কে মৃত হিসেবে উল্লেখ করলে কি করব?
  • উত্তর: সংশোধনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে।

 

  • প্রশ্ন: অবিবাহিত হওয়া শর্তেও  NID কার্ডে বিবাহিত আসলে কি করব?
  •  উত্তর: সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে আপনি বিবাহিত নন এই মর্মে প্রমাণাদিসহ আন্দোলন করতে হবে।

 

  • প্রশ্ন: বিয়ের পর স্বামীর নাম যুক্ত করতে চাইলে করণীয় কি?
  • উত্তর: আবেদনের সময় নিকা নামা বা কাবিননামা এবং স্বামীর NID কার্ডের কপি সংযুক্ত করতে হবে। 

 

  • প্রশ্ন: বিবাহ বিচ্ছেদের পর এনআইডি থেকে স্বামীর নাম বাদ দিতে হলে করণীয় কি?
  • উত্তর: বিবাহ বিচ্ছেদের প্রমাণপত্র এবং তালাকনাম সংযুক্ত করতে হবে। 
  • প্রশ্ন: বিবাহ বিচ্ছেদের পর NID থেকে আগের স্বামীর নাম বাতিল ও নতুন স্বামীর নাম যুক্ত করতে করণীয়?
  • উত্তর: এক্ষেত্রে প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রমাণাদি ও তালাক নামা এবং পরবর্তীতে নতুন স্বামীর নিকা নামা বা কাবিন নামা ও স্বামীর NID সংযুক্ত করতে হবে। 

 

  • প্রশ্ন: পেশ ভুল আসলে কি করব?
  • উত্তর: ভুল সংশোধনের জন্য পেশার আইডি কার্ড বা বেতন ভাতা স্লিপ বা যেকোন একটি ডকুমেন্ট যুক্ত করতে হবে।

 

  • প্রশ্ন: চেহারা পরিবর্তন বা অস্পষ্ট ছবি পরিবর্তন করব কিভাবে? 
  • উত্তর: এর জন্য সরাসরি উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর নির্দিষ্ট তারিখ গিয়ে নতুন ছবি তুলে সাবমিট করে আসতে হবে। একই নিয়মে স্বাক্ষর ও পরিবর্তন করতে পারবেন। 

 

  • প্রশ্ন: নিজ/পিতা/মাতা/স্বামী/স্ত্রী যে কারো নামে ভুল থাকলে করণীয় কি?
  • উত্তর: NID সংশোধন করার সময় জন্ম নিবন্ধন, NID, স্কুল সার্টিফিকেট যুক্ত করতে হবে। অথবা স্বামী স্ত্রীর ক্ষেত্রে কাবিন নামা যুক্ত করতে হতে পারে। 

 

  • প্রশ্ন: পৃতা/স্বামী মারা গেলে কি করব?
  • উত্তর: পিতা/স্বামীকে মৃত উল্লেখ করতে চাইলে মৃত্যু সনদ দাখিল করতে হবে।

 

  • প্রশ্ন: পরিবারের একেক সদস্যের জাতীয় পরিচয় পত্রে পিতা মাতার নামে এক এক রকম আসলে করণীয় কি?
  • উত্তর: এর জন্য পরিবারের সকল সদস্যের জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি, এডুকেশন সার্টিফিকেট এবং সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে পর্যাপ্ত প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।

এ ছিল আমাদের আজকের আলোচনা। আপনি যদি এ বিষয়ে আরোও কোন তথ্য জানতে চান তাহলে আমাদের কমেন্ট করতে ভুলবেন না। এবং এই আর্টিকেলটি অন্যদের সাথে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন। যাতে করে অন্যরাও উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 Comments