উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড ২০২৪ (সম্পূর্ণ ফ্রি)

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আজকের পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য অনুরোধ রইল। ডুয়েল কারেন্সি কার্ড  ফ্রিল্যান্সারদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বস্তু। অনলাইনে টাকা তোলা, পেমেন্ট করা সহ যাবতীয় কাজ করতে প্রয়োজন ডুয়েল কারেন্সি কার্ড। 

কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও ব্যাংক একাউন্ট ছাড়া ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পাওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। যার কারণে অনেক ফ্রিল্যান্সার ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের জন্য নির্ভর করে থাকেন থার্ড পার্টি কম্পানিদের উপর। কিন্তু সেখানেও থাকে অনেক নিয়ম নীতি, লিমিটেশন, টার্মস এন্ড কন্ডিশন। যেগুলোর একটা ভঙ্গ করলে বাজায়াপ্ত হতে পারে আপনার কার্ড ও সঞ্চিত অর্থ। ফ্রিল্যান্সারদের এমন দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংক উপায় নিয়ে আসলো উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড। 

 

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড এর ব্যবহার 

উপায় প্রিপেইড ডুয়েল কারেন্সি কার্ড ব্যবহার করে যেসকল কাজ করা যাবে তাহলো:-

  • Facebook boosting
  • Youtube boosting
  • Play store account purchase বা অনলাইন থেকে যেকোন পণ্যে ক্রয় বিক্রয় সহ যাবতীয় কাজ করতে পারবেন।

এছাড়াও দেশের বাহিরে গিয়ে যেকোন এটিএম টাকা উঠানো, Pos transaction, অনলাইন থেকে ফিজিক্যাল বা ডিজিটাল পণ্য ক্রয় সহ যেকোনো কাজ করা যাবে। তাছাড়া উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের যেকোন এটিএম থেকে টাকা উঠানো সহ একটি কার্ডের যে সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে সকল কিছু পেয়ে যাবেন এই উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে। 

আমাদের ভিতরে অনেকেই আছেন যাদের ব্যাংক একাউন্ট নেই। এখন ব্যাংক একাউন্ট না থাকার কারণে অনেকেই ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নিতে পারেন না। তাদের জন্য উপায় মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস নিয়ে আসলো উপায় ডুয়েল কারেন্সি প্রিপেইড ভিসা কার্ড। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ডটি অর্ডার করবেন এবং কিভাবে হাতে পাবেন।

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নেওয়ার উপায়

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পাওয়ার জন্য উপায় অ্যাপে লগইন করুন। তারপর ‘প্রিপেইড কার্ড‘ অপশন থেকে আপনার NID তথ্য দিয়ে Upay Dual card currency জন্য আবেদন করতে হবে।

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড অর্ডার করার নিয়ম

আপনি যদি উপায় প্রিপেইড কার্ডটি অডার করতে চান তাহলে প্রথমে আপনাকে যে কাজটি করতে হবে। তাহলো আপনার মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস উপায় অ্যাপে লগইন করুন। অ্যাপে লগইন করার পর একটু নিচে গেলে দুটো অপশন দেখতে পাবেন। যেমন: 

  • প্রিপেইড কার্ড এবং
  • উপায় চাকা

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড আবেদন

এছাড়াও আপনি যদি নিচের মেনু অপশন গুলো থেকে ‘একাউন্ট’ অপশনে ক্লিক করেন। তাহলে আপনি একটি অপশন দেখতে পাবেন ‘প্রিপেইড কার্ড→ রিকুয়েস্ট’ এখন রিকুয়েস্ট অপশন ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সামনে একটি ফর্ম চলে আসবে। সেখান থেকে প্রথমে আপনার উপায় একাউন্টের নাম্বারটি দিয়ে দিন। তারপর আপনার NID কার্ড অনুযায়ী আপনার পিতা এবং মাতার নাম লিখুন। অবশ্যই মনে রাখবেন আপনি যে NID কার্ড দিয়ে উপায় একাউন্ট খুলেছেন। সেই NID কার্ডটি ব্যবহার করে ফর্মটি পূরণ করতে হবে।

আরোও পড়ুন: বিদেশ থেকে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

তারপরে একটু নিচে আপনার ইমেইল এড্রেসটি দিয়ে দিন এবং ‘কার্ডে প্রদর্শিত নাম’ এর স্থলে কার্ডের বিতরে কি নাম প্রদর্শিত হবে সেটি দিয়ে দিন। সবগুলো তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে হয়ে গেলে নিচে থেকে ‘শর্তাবলী’ অপশনে ক্লিক করে আপনা চাইলে সেগুলো পড়ে নিতে পারেন। এখন শর্তাবলী অপশনে টিকমার্ক দিয়ে ‘এগিয়ে যান’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী অপশনে নিয়ে যাবে সেখানে আপনার নমিনির তথ্য দিতে হবে।

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নমানি তথ্য

এখন আপনি যে ব্যাক্তিকে নমিনি করতে চান সেই ব্যাক্তির। NID কার্ডের নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিয়ে দিন। তারপর ‘পরবর্তী’ অপশনে ক্লিক করুন। এখন দেখতে পাবেন আপনার নামিনির নাম, পিতার-মাতার নাম এবং ঠিকানা চলে আসবে। এখন আপনি ‘পরবর্তী’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে ডেলিভারি ঠিকানা নির্বাচন করতে বলবে। এখন আপনি যেই ঠিকানায় কাডটি নিতে চান সেটি সিলেক্ট করুন। যেমন: 

  • দেশ
  • বিভাগ
  • শহর
  • জিপ/পোষ্টাল কোড 
  • হোল্ডিং নাম্বার
  • ব্লক ও রোড নাম্বার
  • এলাকা/গ্ৰাম ইত্যাদি 

সকল অপশন সঠিকভাবে পূরণ করে নিন। তারপর নিচে ‘স্বাক্ষরের ছবি তুলুন’ অপশনে আপনার স্বাক্ষরের ছবি আপলোড করে দিন। এর জন্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রে যে স্বাক্ষরটি রয়েছে সেই স্বাক্ষরটি একটি সাদা কাগজের উপরে লিখে ছবি তুলে দিয়ে দিন। স্বাক্ষরের ছবি তোলা হয়ে গেলে নিচে থেকে ‘সাবমিট’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার কার্ডের জন্য একটি এপ্লিকেশন Submit হয়ে যাবে। 

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড আবেদন ২০২৪

এখন উপায় একাউন্ট থেকে আপনার সকল তথ্য চেক করবে। যদি আপনার দেওয়া সকল তথ্য সঠিক থাকে তাহলে তারা আপনার ফোনে একটি SMS পাঠাবে। যেখানে লেখা থাকবে ৩০ দিনের ভিতরে উপায় একাউন্টের মাধ্যমে কার্ডের জন্য ৫৭৫ টাকা পেমেন্ট করতে হবে। 

 

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পেমেন্ট পরিশোধ করার নিয়ম

এখন উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের পেমেন্ট করতে আবার ও আপনার উপায় একাউন্টে লগইন করুন। তারপর প্রিপেইড কার্ড অথবা একাউন্ট অপশন ক্লিক করুন। তাহলে প্রিপেইড কাড অপশনের পাশে ‘পরিশোধ করুন’ লেখা দেখতে পাবেন। এখন পেমেন্ট পরিশোধ করতে ‘পরিশোধ করুন’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী অপশনে নিয়ে যাবে। সেখান লক্ষ্য করলে দেখবেন আপনার নাম এবং এমাউন্ট চলে আসবে।

আরোও পড়ুন: বিকাশ নাম্বার পরিবর্তন করার নিয়ম 

এখন আপনার একাউন্টে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যালেন্স থাকে তাহলে ‘এখনি পরিশোধ করুন’ অপশনে ক্লিক করুন এবং আপনার উপায় একাউন্টের পিন দিয়ে স্লাইড করে confirm করুন। এখন দেখতে পাবেন আপনার ‘পেমেন্ট সফল হয়েছে’ লেখা চলে আসবে এবং আপনার মোবাইল একটি কনফার্মেশন SMS চলে আসবে। যেখানে লেখা থাকবে আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে কার্ডটি আপনার ঠিকানায় ডেলিভারি হয়ে যাবে।

কার্ডটি হাতে পাওয়ার পর উপায় একাউন্টে ঢুকে পিন দিয়ে কার্ডটি একটিভ করে নিন। কিভাবে কার্ডটি একটিভ করতে হবে সেটি আপনি কার্ডের সাথে থাকা ইউজার মেনুতে দেখতে পাবেন। অথবা সরাসরি উপায় কাস্টমার কেয়ারে কল করেও কার্ডটি একটিভ প্রক্রিয়া জেনে নিতে পারেন। 

কার্ডটি একটিভ করার পর উপায় একাউন্টে লগইন করে আপনি কার্ডটি অপারেট করতে পারবেন। কার্ডটি অপারেট করার জন্য আবারও উপায় অ্যাপে লগইন করুন। তারপর নিচে থেকে প্রিপেইড কার্ড  অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে কার্ড ব্যালেন্স অপশন দেখতে পাবেন। সেখান থেকে ‘ব্যালেন্স দেখুন’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনি আপনার কার্ডের ব্যালেন্স দেখতে পাবেন। এছাড়া আপনি নিচে আরোও দুটি অপশন দেখতে পাবেন।

  • কার্ড লোড এবং 
  • লেনদন বিবরণী

এখন আপনি কার্ড লোড অপশনে ক্লিক করলে অ্যামাউন্ট অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে অ্যামাউন্ট লিখে এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার উপায় একাউন্ট থেকে সরাসরি কার্ড রিচার্জ করতে পারবেন। 

উল্লেখিত প্রসেসেটি ফলো করে আপনি ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ডটি ডেলিভারি নিতে পারবেন এবং পাঁচ থেকে সাত কর্ম দিবসের মধ্য হাতে পেয়ে যাবেন। 

 

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড চার্জ ও ভ্যাট সমূহ

তো চলুন জেনে নেওয়া যাক এই কার্ডটি তে কি কি চার্জ এবং কি কি ভ্যাট কাটবে। তার তালিকা যেমন:

  • কার্ড ইস্যু ফি ৫৭৫ টাকা
  • কার্ড বাৎসরিক/রিনিউএল ফি ৫৭৫ টাকা
  • SMS ফি/ বাৎসরিক ২৩০ টাকা
  • কার্ড লোড ফি প্রযোজ্য নয়
  • মার্ক আপ ফি ২
  • কার্ড রিপ্লেসমেন্ট/রিইস্যু ফি ৫৭৫ টাকা
  • পিন রিইস্যু ফি প্রযোজ্য নয়
  • কার্ড উইথড্র ফি ATM 0.8% Cart withdrawal Fee at Np

 

উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড ট্রানজেকশন লিমিট

  • প্রতিদিন ১০ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রিসার্চ করা যাবে
  • ডেলি ট্রানজেকশন লিমিট ৫০ বারে ৫০ হাজার টাকা
  • মাসিক ১০০ বার রিচার্জ করা যাবে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা
  • ATM উইথড্র সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা
  • Pos ট্রানজেকশন লিমিট নেই
  • মার্চেন্ট/অনলাইন পেমেন্ট লিমিট নেই
  • ATM ডেলি ট্রানজেকশন ৫ বার সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা
  • প্রতি ট্রানজেকশনে আন্তর্জাতিক এটিএম উইথড্র লিমিট ২৫০$ 
  • প্রতিবার আন্তর্জাতিক পজ ট্রানজেকশনে লিমিট ২০০০$ 
  • প্রতিবার আন্তর্জাতিক মার্চেন্ট/অনলাইন পেমেন্ট ৩০০$

উপায় প্রিপেইড কার্ডটি ডুয়েল কারেন্সি করার জন্য যেকোন UCB ব্যাংকের ব্রাঞ্চ গিয়ে পাসপোর্ট দিয়ে ডলার এনডোর্সমেন্ট করতে পারবেন। যদিও কার্ডটি ডুয়েল কারেন্সি সাপোর্টেড কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়া আপনি এটিতে ডলার লোড করতে পারবেন না। 

আরোও পড়ুন: বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করে ব্যবসা করে মাসে ২০-৫০ হাজার টাকা ইনকাম গাইড ও এজেন্ট নেওয়ার উপায়

আশা করি, আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এরকম আরোও গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট পেতে চোখ রাখুন বঙ্গভাষা ওয়েবসাইটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *