ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার নিয়ম ২০২৪

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ রইল। আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা নতুন ড্রাইভিং শিখেছেন এবং ইতিমধ্যে লার্নার লাইসেন্স দিয়ে Exam সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু এখনও ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন নি বা ড্রাইভিং লাইসেন্স করেন নি। 

তারা চাইলে এই আর্টিকেলটি পড়ে হাতে থাকা স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার থেকে খুব সহজে অনলাইনের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার পর, কত দিনের মধ্যে ই পেপার হাতে পাবেন এবং কত দিনের ভিতরে আপনার স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন। এসব বিষয়ে আলোচনা করা হলো আজকের পোস্টে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার জন্য যেকোন ব্রাউজার থেকে প্রবেশ করুন এই ঠিকানায়- bsp.brta.gov.bd। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন’ অপশনে  ক্লিক করে সার্ভিস আইডি নম্বর, আবেদনকারীর নাম, আবেদনের তারিখ, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ধরন ও এনআইডি নম্বর ইত্যাদি। তথ্য দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন সম্পন্ন করুন।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার জন্য আপনার মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটারের ডাটা সংযোগ চালু করুন। তারপর মোবাইল কিংবা কম্পিউটার থাকা যেকোনো একটি ব্রাউজার Open করুন এবং সার্চ বারে bsp.brta.gov.bd লিখে সার্চ করুন। তাহলে আপনাকে bsp portal মেইন ওয়েবসাইটে রিডাইরেক্ট করবে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন ২০২৪

এখন আপনার যদি bsp portal এ আগে থেকে একাউন্ট করা থাকে তাহলে টপ মেনু থেকে ‘প্রবেশ করুন’ অপশনে ক্লিক করে আপনার User name ও Password দিয়ে লগইন করে নিন। আর যদি। bsp portal এ একাউন্ট না থাকে তাহলে টপ মেনু থেকে ‘নিবন্ধন’ অপশনে ক্লিক করে আপনার জন্ম তারিখ, জাতীয় পরিচপত্রের নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে একাউন্ট নিবন্ধন করুন। 

আরোও পড়ুন: হারানো বা নষ্ট হয়ে যাওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স উত্তোলন

বিঃ দ্রঃ এক: মনে রাখবেন উপরে যেই জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করেছেন। সেই একই জাতীয় পরিচয়ত্র দিয়ে যেনো প্রদত্ত মোবাইল নম্বরটি রেজিস্টারড হয়। 

বিঃ দ্রঃ দুই: ১৩ সংখ্যার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এর পূর্বে আবেদনকারীর জন্মসাল যোগ করুন। অর্থাৎ (Date of birth+NID number) যেমন: 1992*********। 

একাউন্ট নিবন্ধন করার পর একাউন্টটি লগইন করুন। তাহলে আপনার সামনে এরকম একটি পেইজ প্রদর্শিত হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন

আপনারা যারা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিয়েছে এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারা চাইলে পরীক্ষা দেওয়ার পর রাত ১২ টা থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে সাধারণত আবেদনের পরের দিন থেকে আবেদন করলে পেমেন্ট করা সহ আনুষাঙ্গিক অন্যান্য কাজ করতে বেশি সুবিধা হয়। কারণ bsp portal প্রতিদিন সকাল ৬ থেকে রাত ১০ পর্যন্ত পেমেন্ট গ্রহণ করে থাকে। তাই রাত ১০ টার পর চাইলেও পেমেন্ট করতে পারবেন না। 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সময় পাশকৃত লার্নার লাইসেন্সের স্ক্যান কপি সংযুক্ত করতে হবে। তাই আবেদনের পূর্বে লার্নার লাইসেন্সের ছবি স্ক্যান করে আপনার ডিভাইসে সংরক্ষণ করুন। এখন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন শুরু করতে ‘বিআরটিএ সেবা বাতায়ন’ ড্যাশ বোর্ড থেকে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন’ অপশনে ক্লিক করুন। 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন

তাহলে আপনার সামনে একটি পেইজ চলে আসবে। সেখান আপনি অনেক গুলো অপশন দেখতে পাবেন। যেমন:

  • সার্ভিস আইডি নম্বর
  • আবেদনকারীর নাম
  • আবেদনের তারিখ
  • ড্রাইভিং লাইসেন্সের ধরন
  • পরিক্ষার স্থান, তারিখ এবং সময় 
  • এনআইডি/পাসপোর্ট নম্বর ইত্যাদি।

এখন আপনি যদি লার্নার পরীক্ষায় পাশ করে থাকেন। তাহলে ‘প্রিন্ট লার্নার’ এর নিচে ‘কৃতকার্য’ লেখাটি দেখতে পাবেন। সাধারণত কৃতকার্য লেখাটি যেই দিন কৃতকার্য হয়েছেন সেই দিন রাত ১২ টার পরে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত হয়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে কৃতকার্য লেখাটি আসতে কম বেশি সময় লাগতে পারে। এটা নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনের ধাপ

এখন ‘আবেদনপত্রের ধাপ’ অপশনের নিচে ‘দেখুন’ অপশন দেখতে পাবেন। দেখুনে ক্লিক করলে আপনার সামনে ৭টি ধাপ চলে আসবে এবং আপনি কয়টি ধাপ শেষ করেছেন সেটিও দেখতে পাবেন। এই ৭টি ধাপ শেষ হলে আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাবেন। ধাপ গুলোর সাথে আপনি কত তারিখে কোন ধাপ শেষ করছেন সেই তারিখ দেখতে পাবেন। 

আপনি যদি লার্নার লাইসেন্স পরীক্ষায় কৃতকার্য থাকেন তাহলে সুধু মাত্র লাইসেন্স ফি পরিশোধ করলে বাকি ধাপ গুলো বিআরটিএ আপনার হয়ে সম্পন্ন করে দিবে। তারপর বিআরটিএ আবেদনটি  Approved করবে, ই-পেপার প্রস্তুত করবে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট করে আপনার ঠিকানায় ডেলিভারি করে দিবে। 

এখন দেখুন এবং পরবর্তী ধাপে অপশনে ক্লিক করে ভিতরে প্রবেশ করুন। তাহলে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের সকল তথ্যগুলো আরো একবার আপনার সামনে প্রদর্শিত হবে। 

এখন আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তাহলো প্রতিটি ডকুমেন্টের সাথে আপনি ‘দেখুন’ একটা অপশন দেখতে পাবেন। দেখুনে ক্লিক করে আপনার সকল ডকুমেন্ট স্পষ্ট কিনা তা ভালো করে যাচাই করে নিতে হবে। কারন, ডকুমেন্ট যদি স্পষ্ট না হয় তাহলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই সব কিছু ভালো করে একবার যাচাই করে নিন। 

এপর্যায়ে ‘সংযুক্তি’ অপশন থেকে ‘পাস লার্নার কপি অপশনে’ আপনার কৃতকার্য লার্নার সার্টিফিকেটি আপলোড করুন। অব্যশই ফাইল সাইজ ৬০০ কিলোবাইট এর নিচে হতে হবে এবং ফাইলের ধরন jpg বা pdf হতে হবে। ডকুমেন্ট আপলোড করার পর ‘সংরক্ষণ’ বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে ডকুমেন্টের সাথে দেখুন অপশন প্রদর্শিত হবে এবং আপনার ডকুমেন্ট আপলোড হয়ে যাবে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি পরিশোধ

এখন আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি পরিশোধ করার জন্য দুটি অপশন দেখতে পাবেন। 

  1. ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন ফি জমা
  2. ব্যাংকের মাধ্যমে ফি জমা

এখন আপনি কিভাবে ফি জমা দিতে চাচ্ছেন সেটি সিলেক্ট করুন। আপনি যদি ব্যাংকের মাধ্যমে ফি জমা দিতে চান তাহলে ব্যাংকের মাধ্যমে ফি জমা অপশন ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সামনে একটি ফরম চলে আসবে। সেটি পূরণ করে ব্যাংকে ফি জমা করতে পারবেন। যেহেতু, খুব সহজেই ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া যায়। সেইজন্য আর কষ্ট করে ব্যাংকে ফি জমার জন্য যেতে হবে না। আপনি চাইলে ঘরে বসে অনলাইনে ফি জমা করতে পারবেন। 

 

ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি পরিশোধ

এখন অনলাইনে ফি জমা দেওয়ার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন ফি জমা অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আবেদনটি করার জন্য আপনাকে কত টাকা পেমেন্ট করতে হবে সেই সকল তথ্য দেখতে পাবেন। যেমন: মূল ফি ৩০০০টাকা, লেবেল ফি ৬১০টাকা, ভ্যাট ফি ৫৮৭টাকা এবং হোম ডেলিভারি ফি ৬০ টাকা। মোট ফি ৪৫৫৭টাকা। 

আরোও পড়ুন: ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন করার নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্ট কার্ড পাওয়ার জন্য আপনাকে সর্বমোট ৪,৫৫৭ টাকা জমা করতে হবে। তাহলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আর পেমেন্ট করতে হবে না। তারমানি প্রথমে আপনাকে লার্নার লাইসেন্স জন্য পেমেন্ট করতে হয়েছিল আর এখন স্মাট কার্ডের জন্য পেমেন্ট করতে হচ্ছে। অর্থাৎ ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আপনাকে সর্বমোট ৫,৩০০ টাকার মতো খরচ করতে হচ্ছে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি পরিশোধ প্রক্রিয়া

এখন আপনি ‘ফি জমা দিন’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সামনে একটি পেইজ চলে আসবে। সেখানে আপনি আপনার মোবাইল নম্বর দেখতে পাবেন। যদি মোবাইল নম্বর সঠিক থাকে তাহলে নম্বরের পাশে থাকা বস্কটিতে ক্লিক করুন। তাহলে নিচে payment method চলে আসবে। এখন আপনি চাইলে নিম্নের যেকোন একটি পদ্ধতিতে ফি জমা করতে পারেন। যেমন: 

  • সিটি ব্যাংকের ভিসা কার্ড
  • ডাচ বাংলা ব্যাংক
  • বিকাশ এবং
  • নগদ ইত্যাদি।

আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোন একটি পেমেন্ট গেটওয়ে বেছে নিন। তবে আপনি যে মাধ্যমে পেমেন্ট করবে না কেন। তার জন্য সামান্য কিছু টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এখন আপনি কিভাবে পেমেন্ট করতে চান সেটি সিলেক্ট করুন। 

উদাহরণস্বরূপ: আপনি বিকাশে পেমেন্ট করবেন। সেইজন্য বিকাশ সিলেক্ট করুন। তাহলে মূল এমাউন্টের সাথে বিকাশ সার্ভিস ফি যুক্ত হয়ে যাবে এবং আপনাকে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়েতে নিয়ে যাওয়া হবে। 

এখন আপনার বিকাশ নম্বরটি দিয়ে ‘কনফার্ম’ লেখার উপর ক্লিক করুন। তাহলে আপনার ফোন একটি ৬ অক্ষরের ভেরিফিকেশন কোড চলে আসবে। সেটি কপি করে বসিয়ে দিন এবং পরবর্তী ধাপে ক্লিক করুন। তারপর আপনার বিকাশ একাউন্টের পিন নম্বর দিয়ে কনফার্ম অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার একাউন্ট থেকে মোট ৪৬২৫.৩৬টাকা কেটে নেওয়া হবে। 

টাকা পেমেন্ট করা হয়ে গেলে Payment completed successfully. Please click ‘HERE’ to get money receipts লেখা চলে আসবে। এখন আপনি HERE লেখা অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার মানি রিসিপটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেমেন্ট রিসিট ডাউনলোড পেমেন্ট

মানি রিসিপট এর ভিতরে প্রবেশ করলে আপনার সকল তথ্য দেখতে পাবেন। কিভাবে পেমেন্ট করছেন। অর্থাৎ পেমেন্টের ধরন, ট্রানজেকশন আইডি ইত্যাদি। এখন আপনাকে অবশ্যই মানি রিসিপটি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এটি পরবর্তীতে আপনার প্রয়োজন হবে। যেহেতু ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্ট কার্ডের জন্য পেমেন্ট করেছেন। এজন্য অনুমোদন অবস্থা লেখার নিচে ‘অনুমোদন জন্য অপেক্ষমান’ লেখা চলে আসবে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার নিয়ম ২০২৪

এখন BRTA অফিস থেকে আপনার সকল ডকুমেন্ট যাচাই করবে। আপনি যে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য দিয়েছেন, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং লার্নার কপি ইত্যাদি। সকল তথ্য সঠিক হলে তারা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনটি অনুমোদন করে দিবে।

তারা এই আবেদনটি অনুমোদন করে দিলে আপনি একটি সাময়িক সময়ের জন্য ই লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। যেটি ব্যবহার করে আপনি গাড়ি চালাতে পারবেন। আপনি এখানে ই লাইসেন্স প্রিন্ট অপশন ও পেয়ে যাবেন। এখন আপনি চাইলে এখান থেকে ই লাইসেন্সটি প্রিন্ট কর নিতে পারবেন এবং গাড়ি চালাতে পারবেন। এর ভিতরে  কিছুদিনের মধ্যে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং স্মার্ট কার্ড তৈরি হয়ে গেলে সেগুলো ডাক যোগে  আপনার দেওয়া ঠিকানায় ডেলিভারি হয়ে যাবে।

সাময়িক ই লাইসেন্স

আশা করি, আর্টিকেলটি পড়ে আপনি অনলাইনের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স রিলেটেড আরোও গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে। ধন্যবাদ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 Comment