বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কিছুদিন ব্যবহার করার পরে অনেক মোবাইল ফোন ধীরে বা স্লো কাজ করা শুরু করে, ফোনের অ্যাপ খুলতে সময় নেয় এবং ফোনটি বারবার হ্যাং হয়।
যার ফলে ফোন ব্যবহারকারীরা বিরক্ত হয়ে পড়েন এবং ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নষ্ট হয়ে যায়। তবে চিন্তার কিছু নেই। আপনি যদি কিছু সহজ এবং কার্যকর উপায় ব্যবহার করেন। তাহলে আপনার পুরাতন ফোনের স্পিড আবারো বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
আজকের পোস্টে আমরা পুরাতন মোবাইল ফোন Slow হলে করনীয় ১০টি উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। যার সাহায্যে খুব সহজেই আপনার ফোনের স্পিড বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
পুরাতন মোবাইল ফোন Slow হলে করনীয়
একটানা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে যদি আপনার স্মার্টফোনটি স্লো হয়ে যায়। তাহলে এই কয়েকটি সেটিংস চালু করে রাখুন। দেখবেন আপনার স্মার্টফোন আগের তুলনায় ফার্স্ট কাজ করবে। নিচে পুরাতন মোবাইল ফোন Slow হলে করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. Animation Scale
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে যদি আপনার স্মার্টফোনটি স্লো হয়ে যায়। তাহলে প্রথমেই আপনাকে যে কাজটি করতে হবে। সেটি হচ্ছে: আপনার স্মার্টফোন থেকে কিছু এনিমেশন স্কেল অফ করতে হবে। এখন এনিমেশন স্কেল অফ করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার মোবাইলে থাকা সেটিংস অপশনে প্রবেশ করুন।
সেটিংসে আসার পরে “About Phone” অপশনটিতে ক্লিক করুন। তাহলে সেখানে বেশ কয়েকটি অপশন পেয়ে যাবেন। এখন সেখান থেকে “OS Version” অপশনটি খুঁজে বের করুন। এরপর OS Version অপশনের উপর ৭বার ট্যাপ করুন। তাহলে অটোমেটিক আপনার ডেভেলপার অপশনটি চালু হয়ে যাবে।
এখন আপনাকে যে কাজটি করতে হবে। সেটি হচ্ছে: আবারো সেটিং অপশনে প্রবেশ করুন। তারপর সার্চ অপশনে “Developer” লিখে সার্চ করুন। এখন সার্চ রেজাল্টে আসা “ডেভলপার” অপশনে প্রবেশ করুন। এরপর পরবর্তী অপশন থেকে “Window animation” অপশনটি খুঁজে অপশনটি অফ করুন।
এরপর নিচে থেকে “Transition Animation Scale” অপশন খুঁজে বের করুন এবং অপশনটি অফ করুন। এখন আরোও একটি অপশন অফ করতে হবে। সেটি হচ্ছে: Animator duration scale।
তাহলে সেখান থেকে Animator duration scale অপশনটি খুঁজে বের করে অফ করুন। আপনি যদি এই অপশনগুলো অফ করে রাখেন। তাহলে আপনার স্মার্টফোনটি আগের তুলনায় ফার্স্ট কাজ করবে।
২. Auto-SYNc Data
পুরাতন মোবাইল ফোন Slow হলে আপনার মোবাইল থেকে Auto-SYNc Data অপশনটি অফ করতে হবে। এখন অপশনটি অফ করার জন্য আপনার মোবাইলে থাকা “সেটিংস” অপশনে প্রবেশ করুন।
তারপর সেটিংস অপশন থেকে “Users & Accounts” অপশনটি খুঁজে বের করুন, এবং Users & Accounts অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে। সেখান থেকে Auto-SYNc Data অপশনটি অফ করুন।
আপনার মোবাইল ফোনে যদি Auto-SYNc Data অপশনটি চালু থাকে। তাহলে অটোমেটিক আপনার মোবাইলে ফটো, গুগল, ড্রাইভ এবং ফাইল ইত্যাদি সবসময় আপডেট হতে থাকবে। যার ফলে আপনার মোবাইলটি স্লো হতে থাকে।
তাই আপনি যদি পুরাতন মোবাইল ফোনটি ফার্স্ট করতে চান। তাহলে Auto-SYNc Data অপশনটি অফ রাখুন। যখনি আপনার প্রয়োজন হবে। তখন পুনরায় অপশনটি চালু করতে পারবেন।
৩. GPS- জিপিএস
পুরাতন মোবাইল ফোনের স্পীড বাড়ানোর জন্য আপনার মোবাইলের অটো জিপিএস বা লোকেশনটি অফ রাখুন। আপনার মোবাইলে যদি অটো জিপিএস বা লোকেশনটি চালু থাকে।
তাহলে প্রত্যেক সেকেন্ডে আপনার মোবাইল লোকেশন খুঁজতে থাকবে। এতে করে আপনার মোবাইল দ্রুত স্লো হতে শুরু করবে। সেজন্য আপনার মোবাইলে থাকা অটো জিপিএস বা লোকেশনটি অফ রাখুন।
৪. Others Option off
মোবাইল ফোনের ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই কিংবা এনএফসি ইত্যাদি যেগুলো আপনি ব্যবহার করছেন না। সকল অপশন অফ করুন। এই অপশনগুলো অন থাকার কারনে ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করতে থাকে। যার ফলে ফোনের উপর আলাদা একটি পেশার থাকে এবং ফোন স্লো কাজ করে।
পুরাতন ফোনের স্পিড বাড়ানোর জন্য অপ্রয়োজনীয় অপশন গুলো অফ রাখুন। এতে করে আপনার ফোন দ্রুত কাজ করবে।
৫. Always on Display
আপনার মোবাইল ফোনটি যদি পুরাতন হয়ে যায় এবং ফোনটি স্লো কাজ করে। তাহলে মোবাইল ফোন থেকে Always on Display অপশনটি অফ রাখুন। এতে করে আপনার ফোনটি আগের তুলনায় ফার্স্ট কাজ করবে।
Always on Display অপশনটি অফ করার জন্য মোবাইল ফোন থেকে সেটিং অপশনে প্রবেশ করুন। এরপর ডিসপ্লে অপশনে প্রবেশ করে Always on Display অপশনটি অফ করুন।
৬. Live Wallpaper
আপনার মোবাইল ফোনে যদি থার্ড পার্টি অ্যাপস ইন্সটল করে লাইভ ওয়ালপেপার সেট করেন। তাহলে এতে করে আপনার ফোনটির দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাবে এবং ফোনটি ধীর গতিতে কাজ করা শুরু করবে।
সুতরাং, আপনার মোবাইল ফোনে যদি লাইভ ওয়ালপেপার এপ্স ইন্সটল করা থাকে। তাহলে এখনি Live Wallpaper অ্যাপসটি আনইনস্টল করুন। এতে করে আপনার ফোন অনেক বেশি ফাস্ট কাজ করবে।
৭. Internal storage
আপনার মোবাইল ফোনের ইন্টারনাল স্টোরে 20 থেকে 30% পর্যন্ত ফ্রি রাখুন। যদি আপনার মোবাইল ফোনের ইন্টার্নাল স্টোরেজ ফুল থাকে। তাহলে আপনার মোবাইলটি বারবার হ্যাং এবং স্লো কাজ করবে। সুতরাং, যতটা সম্ভব আপনার মোবাইল ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ ফ্রি রাখুন।
Internal storage ফ্রি রাখার জন্য আপনার মোবাইল ফোনের “ফাইল” অ্যাপসটিতে প্রবেশ করুন। এরপর সেখান থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাইল, ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিও এবং অ্যাপস আনইন্সটল করুন। এতে করে আপনার ফোনটি দ্রুত গতিতে কাজ করবে।
৮. Apps Cache Data Clean
আপনার মোবাইল ফোনের Cache Data গুলো নিয়মিত পরিষ্কার করুন। তা না হলে আপনার মোবাইলের Internal storage গুলো ক্রমাগত বাড়তে থাকবে এবং আপনার মোবাইল ফোনটি স্লো কাজ করবে।
এখন Cache Data পরিষ্কার করার জন্য আপনার মোবাইল থেকে “সেটিংস” অপশনে প্রবেশ করুন। এরপর সেখান থেকে “Apps” অপশনটি খুঁজে বের করতে হবে। এখন “অ্যাপস” অপশন থেকে আপনার মোবাইলে থাকা সকল অ্যাপস গুলো দেখতে পাবেন এবং কোন অ্যাপসটি কত জিবি ডাটা দখল করছে। সেটিও দেখতে পাবেন।
এখন আপনি যে অ্যাপসের Cache Data পরিষ্কার করতে চাচ্ছেন। সেই অ্যাপসটির উপর ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখান থেকে storage Usage অপশনে ক্লিক করুন।
তারপর পরবর্তী অপশন থেকে Clean Cache অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে অ্যাপসের অপ্রয়োজনীয় ডাটা গুলো ডিলেট হয়ে যাবে।
তবে মনে রাখবেন। এক্ষেত্রে আপনি যে অ্যাপসের স্টোরেজ ডিলিট করবেন। সেই অ্যাপসে আপনার কোন একাউন্ট থাকলে সেটি লগআউট হয়ে যেতে পারে।
এভাবে করে আপনি সেখানে থাকা অ্যাপের অপ্রয়োজনীয় ডাটা গুলো ডিলেট করলে আপনার মোবাইল ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ ফ্রি হবে এবং ফোনটি দ্রুত কাজ করবে।
৯. Restart রিস্টার্ট
অনেক সময় ফোনের ফাংশনাল কারণে মোবাইল ফোন স্লো হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে মোবাইল ফোনটি Restart দিলে ঠিক হয়ে যায় এবং আগের তুলনায় ফার্স্ট কাজ করে।
এখন Restart দেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ফোনটির পাওয়ার বাটন চেপে ধরুন। তাহলে Restart নামে একটি অপশন চলে আসবে। এখন রিস্টার্ট অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে ফোনটি অফ হয়ে যাবে এবং কিছু সময় পরে ফোনটি অটোমেটিক অন হয়ে যাবে।
এতে করে আপনার মোবাইল ফোনটির অপ্রয়োজনীয় ডাটা গুলো ডিলেট হয়ে যাবে এবং ফোনটি আগের তুলনায় অনেক বেশি ফাস্ট কাজ করবে।
এছাড়াও ফোনটিকে ফার্স্ট রাখার জন্য অবশ্যই মোবাইলে আসা আপডেট কৃত অ্যাপস গুলো এবং ফোনের সফটওয়্যার আপডেট দিতে হবে। তাহলে আপনার মোবাইল ফার্স্ট কাজ করবে।
এখন ফোনে আসা আপডেট কৃত অ্যাপস গুলো আপডেট দেওয়ার জন্য মোবাইল থেকে “সেটিং” অপশনে প্রবেশ করুন। এরপর “Software Update” অপশনে ক্লিক করে সফটওয়্যার আপডেট করুন। তাহলে আপনার মোবাইলের সফটওয়্যার আপডেট হয়ে যাবে এবং ফোনটি দ্রুত গতিতে কাজ করবে।
আপনি চাইলে Google play store ব্যবহার করে মোবাইলের প্রয়োজনীয় অ্যাপ গুলো আপডেট করতে পারবেন। তবে সব সময় auto app update বন্ধ রাখা উচিত।
১০. Apps Uninstall
মোবাইল ফোন স্লো হওয়ার আরেকটি বড় কারন হচ্ছে: মোবাইলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস ইন্সটল করা। এতে করে মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ গুলো ফুল হয়ে যায় এবং ফোনটি ধীর গতিতে কাজ শুরু করে।
সুতরাং, আপনার প্রয়োজনীয় অ্যাপস গুলো বাদে বাকি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপসগুলো বা যেগুলো মাসে এক বা দুই বার ব্যবহার করেন এমন apps গুলো আনইনস্টল করুন। এতে করে আপনার মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ ফাঁকা হয়ে যাবে এবং ফোনটি আগের তুলনায় দ্রুত গতিতে কাজ করবে।
উপরে উল্লেখিত সেটিংস গুলো করার পরেও যদি আপনার মোবাইল ফোন স্লো কাজ করে। তাহলে সর্বশেষ সমাধান হিসেবে আপনি মোবাইলের ফ্যাক্টরি রিসেট করতে পারেন। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন ফ্যাক্টরি রিসেট করার আগে আপনার ফোনের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, ছবি, অ্যাপ ও পাসওয়ার্ডের ব্যাকআপ রাখতে হবে। অন্যথায় সব ডাটা হারিয়ে যেতে পারে।
তাই Factory reset করার আগে আপনি চাইলে অন্য কোন মোবাইল, কম্পিউটারে অথবা মেমোরিতে কিংবা গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করে আপনার ফাইলগুলোর ব্যাকআপ রাখতে পারবেন। তারপর আপনার ফোনের নাম দিয়ে ইউটিউবে সার্চ করুন Your phone name factory reset।
অর্থাৎ আপনার ফোনের নামের সাথে ফ্যাক্টরি রিসেট লিখে সার্চ করলে ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে যেকোনো একটি ভিডিও দেখে আপনি চাইলে খুব সহজে আপনার ফোনের ফ্যাক্টরি রিসেট করে ফোনের স্পিড বাড়িয়ে নিতে পারবেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে সম্ভব হলে মাসে এক বার ফ্যাক্টরি রিসেট করা সবচেয়ে ভালো।

