অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম ২০২৬

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম, অ্যাপ থেকে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম, ওয়েবসাইট থেকে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম, মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম, ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করার নিয়ম।

এক নজরে দেখুন

কাউন্টারে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম, ট্রেনের টিকিট রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিটের মূল্য এবং ট্রেনের টিকিট কাটতে কি কি ডকুমেন্টস লাগবে ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন আজকের পোস্টে। তাই ধৈর্য সহকারে সম্পূর্ণ আটিকেলটি পড়ুন।

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য যেকোনো একটি ব্রাউজার থেকে Rail Sheba ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে NID তথ্য দিয়ে একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন। যেমন: নাম, nid নাম্বার, জন্ম তারিখ ও ইমেইল এড্রেস। একাউন্ট রেজিস্ট্রেশনের পরে আপনার গন্তব্য নির্বাচন করে পেমেন্ট করলে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটা হয়ে যাবে।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম বিস্তারিত:

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য প্রথমে মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের ডাটা সংযোগ চালু করুন। এরপর মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে থাকা যেকোনো একটি ব্রাউজার ওপেন করুন এবং সার্চ অপশনে Train ticket bd লিখে সার্চ করুন। এখন সার্চ রেজাল্টে আসা প্রথম ওয়েবসাইট অর্থাৎ, (Bangladesh Railway) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর “র্টামস এন্ড কন্ডিশন” পেজ প্রদর্শিত হবে। সেখান থেকে “I agree” তে ক্লিক করুন। এরপর উপরের ডান দিকের 3 ডট অপশন থেকে ‘REGISTER’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে একাউন্ট Registration ফর্ম দেখতে পাবেন।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বুকিং

এখন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আপনার NID কার্ড অনুযায়ী ফর্মে থাকা তথ্য গুলো সঠিকভাবে পূরণ করুন। যেমন: আপনার NID নাম্বার, জন্ম তারিখ এবং মোবাইল নাম্বার। তাহলে তথ্য গুলো দেওয়া হয়ে গেলে নিচে থেকে I’m not robot ক্যাপচাটি পূরণ করে Verify বাটনে ক্লিক করুন।

তাহলে আপনার নাম্বারে ৬ সংখ্যার OTP কোড যাবে। সেটি বসিয়ে Continue অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে আসবে। এখন পরবর্তী ধাপে আপনাকে আরোও কিছু তথ্য এবং একটি পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে। যেমন:

  • Password
  • Confirm Password
  • Email address
  • Postal code এবং
  • Address

তাহলে প্রথমে আপনার একাউন্টের পাসওয়ার্ড সেট করুন। এরপর একই পাসওয়ার্ড Confirm Password অপশনে বসিয়ে দিন। এখন আপনার ব্যবহারিত সচল Email address, Postal code এবং Address বসিয়ে নিচে থেকে “Registration” অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম ২০২৪

এখন আপনাকে ওয়েবসাইটের হোম পেজে নিয়ে আসবে। যেখান থেকে আপনাকে আপনার গন্তব্য স্থান বাছাই করতে হবে। এখন From অপশনে ক্লিক করে আপনি কোন জায়গা থেকে ট্রেনে ভ্রমণ করবেন এবং To অপশনে ক্লিক করে আপনার গন্তব্যের শেষ ঠিকানা Type করুন।

আরও পড়ুন: অনলাইনে বাসের টিকিট কাটার নিয়ম (অনলাইন/অ্যাপ-Shohoz)

তারপর Date of journey (আপনি কত তারিখে রওনা হবেন) সেটি সিলেক্ট করুন এবং Choose a class অপশন থেকে আপনার ট্রেনের ধরণ নির্বাচন করে ‘Search Train’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সিলেক্ট করা তারিখে available ট্রেন গুলোর তালিকা, ভাড়া ও পৌছানোর সময় সহ বিস্তারিত দেখতে পাবেন। যেমন:

  • CHITRA EXPRESS
  • SUNDARBAN EXPRESS
  • SUBARNA EXPRESS
  • EKOTA EXPRESS এবং
  • TISTA EXPRESS

এখন ট্রেনের সিট বুকিং করার জন্য ‘Book now’ অপশনে ক্লিক করে আপনার পছন্দ এবং প্রয়োজন অনুসারে যতগুলো সিট প্রয়োজন। সেটি সিলেক্ট করুন এবং ‘Continue purchase’ বাটনে ক্লিক করুন। মনে রাখবেন, শুধুমাত্রা সেখানে থাকা সাদা কালার সিট গুলো বুকিং করতে পারবেন। কেননা অরেঞ্জ কালারের সিটগুলো ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে।

এছাড়াও আপনি Continue purchase অপশনে ক্লিক করে আপনার Passenger details এবং ট্রেনের ভাড়ার পরিমান দেখতে পাবেন। যেমন:

  • Name
  • Adult
  • Mobile Number
  • Email Address
  • Journey details
  • Date এবং
  • Seat No ইত্যাদি।

এখন নিচে থেকে Proceed অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে পেমেন্ট করার দুটি গেটওয়ে দেখতে পাবেন। যেমন:

  1. Mobile banking (বিকাশ/রকেট/নগদ) এবং
  2. Debit/credit card

এখন বিকাশ/রকেট/নগদ পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে পেমেন্ট করার জন্য Mobile banking অপশন থেকে যেকোনো একটি অপশন বেছে নিন। তারপর আপনার একাউন্ট নাম্বার দিয়ে Confirm বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার মোবাইল নাম্বার ৬ ডিজিটের ভেরিফিকেশন কোড যাবে।

সেই ভেরিফিকেশন কোডটি বসিয়ে আবারো Confirm অপশনে ক্লিক করুন। তারপর আপনার একাউন্টের পিন নাম্বার দিয়ে Confirm অপশনে ক্লিক করলেই আপনার একাউন্ট থেকে পর্যাপ্ত পরিমান টাকা কেটে নিবে এবং আপনার ট্রেনের টিকিট Confirm হয়ে যাবে।

ট্রেনের টিকিট কাটা কনফার্ম হয়ে গেলে নিচে “ডাউনলোড” অপশন চলে আসবে। এখন সেখান থেকে ডাউনলোড অপশনে ক্লিক ট্রেনের টিকিটটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন। তারপর আপনার রওনা হওয়ার দিনে টিকিট কপি দেখিয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন।

অ্যাপ থেকে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

আপনি চাইলে অনলাইন ছাড়াও “রেল সেবা” অ্যাপস ব্যবহার করে ঈদের অগ্রিম ট্রেনের টিকিট কাটতে (বুকিং) করতে পারবেন। যারা ওয়েবসাইট ব্যবহারে অভ্যস্ত নয় তারা চাইলে Rail Sheba app ব্যবহার করে দেখতে পারেন। কিভাবে রেল সেবা অ্যাপ ব্যবহার করে ট্রেনের টিকিট কাটবেন। সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: 

অ্যাপ থেকে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের ডাটা সংযোগ চালু করুন। তারপর play store-এ গিয়ে সার্চ বারে ‘Rail Sheba’ লিখে সার্চ করুন এবং সার্চ রেজাল্টে আসা Rail Sheba-Bangladesh railway অ্যাপটি install করুন।

এখন অ্যাপসটি সম্পূর্ন install হয়ে গেলে ওপেন করুন। তাহলে Register এবং Login দুটি অপশন দেখতে পাবেন। এখন নতুন একাউন্ট করার জন্য “রেজিস্ট্রেশন” অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করার পেজ ওপেন হবে।

এখন আপনার NID কার্ডের তথ্য অনুযায়ী রেলসেবা অ্যাপসে একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। যেমন:

  • মোবাইল নাম্বার
  • NID নাম্বার এবং
  • জন্ম তারিখ

তাহলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল নাম্বার বসিয়ে দিন। এরপর আপনার ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার এবং জন্ম তারিখ বসিয়ে I’m not a Robot ক্যাপচা পূরণ করে Verify অপশনে ক্লিক করুন।

অ্যাপস থেকে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

এখন পরবর্তী অপশনে একাউন্টের পাসওয়ার্ড দিতে হবে। যেটি ব্যবহার করে পরবর্তীতে রেলসেবা অ্যাপে লগইন করতে পারবেন‌। তাহলে পাসওয়ার্ড সেট করার জন্য Password এবং Confirm Password অপশনে ক্লিক করে আপনার পছন্দ অনুযায়ী পাসওয়ার্ড বসিয়ে দিন।

এরপর আপনার Email address, Postal code এবং Address সঠিকভাবে বসিয়ে নিচে থেকে “Registration” অপশনে ক্লিক করুন। মনে রাখবেন, আপনি এক ই-মেইল এ্যাড্রেস দিয়ে বার বার একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন না। একটি ই-মেইল দিয়ে ১বার একাউন্ট খুলতে পারবেন।

এখন Register অপশনে ক্লিক করলে আপনার আপনার মোবাইল নাম্বারে একটি ভেরিফিকেশন কোড/OTP যাবে। সেই কোডটি সঠিকভাবে বসিয়ে Verify অপশনে ক্লিক করুন।

তাহলে আপনাকে পরবর্তী অপশনে নিয়ে যাবে এবং সেখানে একটি নতুন পেজ দেখতে পাবেন। এখন সেখান থেকে ‘I agree’ অপশনে ক্লিক করলে আপনার একাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে।

একাউন্ট তৈরির পরে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য আমাদের আইডিটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এখন ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য Select station অপশনে ক্লিক করুন এবং আপনি কোন স্টেশন থেকে রওনা দিতে চাচ্ছেন। সেটি সিলেক্ট করুন।

এখন Select station অপশনে ক্লিক করে আপনি কোন জায়গায় ভ্রমণ শেষ করবেন। অর্থাৎ, আপনার গন্তব্যের শেষ ঠিকানা নির্বাচন করুন। তারপর Class এবং তারিখ সিলেক্ট করুন। এখন সকল তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পরে ‘Search Trains’ বাটনে ক্লিক করুন।

অনলাইনে অগ্রিম ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

তাহলে আপনার জন্য ঐ তারিখে available ট্রেন গুলোর তালিকা, ভাড়া এবং পৌছানোর সময় সহ বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন। যেমন:

  • CHITRA EXPRESS
  • SUNDARBAN EXPRESS
  • SUBARNA EXPRESS
  • EKOTA EXPRESS এবং
  • TISTA EXPRESS

এখন আপনার পছন্দ অনুযায়ী ট্রেন সিলেক্ট করুন। তারপর Class অপশনের নিচে থাকা ‘BOOK NOW’ বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে Booked এবং ফাঁকা চেয়ার গুলোর লিস্ট দেখতে পাবেন।

সেখানে থাকা সাদা সিটগুলো ফাঁকা রয়েছে। আর অরেঞ্জ কালারের সিটগুলো ইতিমধ্যে Booked/ বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আপনাকে সাদা কালারের সিটগুলো থেকে সিট সিলেক্ট করতে হবে। তাহলে সেখান থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী সিট সিলেক্ট করুন।

এখন সিট সিলেক্ট করা হয়ে গেলে নিচে থেকে “CONTINUE PURCHASE” বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে নতুন একটি পেজ ওপেন হবে। এখন সেখান আপনার নাম দেখতে পাবেন।

আপনি Adult/Child অপশন সিলেক্ট করে আপনার ইমেইল এড্রেস, মোবাইল নাম্বার এবং ট্রেনের টিকিটের তথ্য ইত্যাদি দেখতে পারবেন।এখন আপনি “Proceed” অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী অপশনে নিয়ে যাবে এবং সেখানে টিকিটের দাম দেখতে পাবেন।

এখন আপনার টিকেটটি কনফার্ম করার জন্য পেমেন্ট করতে হবে। সেখানে পেমেন্ট করার জন্য বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে দেখতে পাবেন। যেমন:

  • বিকাশ
  • রকেট
  • নগদ
  • উপায়
  • Visa card
  • Mastercard এবং
  • DBBL Nexus ইত্যাদি।

তাহলে সেখান থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী পেমেন্ট গেটওয়ে সিলেক্ট করে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন। উদাহরণ স্বরূপ, বিকাশে পেমেন্ট করার জন্য বিকাশ সিলেক্ট করুন। তাহলে পেমেন্ট করার অপশন চলে আসবে।

এখন সেখানে আপনি যে বিকাশ নাম্বার ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে চাচ্ছেন। সেই বিকাশ নাম্বারটি লিখুন এবং নিচে থেকে Confirm অপশনে ক্লিক করুন।

ট্রেন টিকিট পেমেন্ট পরিশোধ

তাহলে আপনার বিকাশ নাম্বারে ৬ডিজিটের একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে। এখানে সেই কোডটি বসিয়ে দিন এবং Confirm ক্লিক করুন। তারপর পরবর্তী অপশনে আপনার বিকাশ একাউন্টের পিন নাম্বার দিয়ে Confirm অপশনে ক্লিক করুন।

তাহলে আপনার বিকাশ একাউন্ট থেকে টিকিটের পর্যাপ্ত টাকা কেটে নিবে। এখন আপনার টিকেটটি ডাউনলোড করতে হবে। তাহলে টিকেটটি ডাউনলোড করার জন্য পরবর্তী অপশন থেকে “Download Ticket” অপশনে ক্লিক করে আপনার টিকেটটি ডাউনলোড করুন। এখন আপনি এই টিকেটটি ব্যবহার করে নির্ধারিত তারিখে ভ্রমণ করতে পারবেন।

ট্রেনের টিকিট কাটতে কি কি লাগবে?

আপনি যদি অনলাইনের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট কাটতে চান। তাহলে ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য আপনার কয়েকটি ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক। ট্রেনের টিকিট কাটতে/রেজিস্ট্রেশন করতে কি কি ডকুমেন্টস লাগবে। যেমন:

  • আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নাম্বার প্রয়োজন হবে
  • সচল মোবাইল নাম্বার
  • আপনার ব্যবহৃত ইমেইল এড্রেস (শুধুমাত্র একটি ইমেইল এড্রেস ব্যবহার করে একটাই ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন) এবং
  • আপনার ব্যক্তিগত কিছু ডকুমেন্ট (আপনার নাম এবং জন্ম তারিখ ইত্যাদি।

ট্রেনের টিকিট রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

ট্রেনে ভ্রমণ করার আগে অবশ্যই যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার বা জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাইপূর্বক রেজিস্ট্রেশন কিংবা জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে অনলাইনে রেলসেবা অ্যাপস কিংবা ওয়েবসাইটে ট্রেনের টিকিট রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

বর্তমান সময়ে অনলাইনে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা যেকোনো সময় ট্রেনের টিকিটের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। গেল বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রেলভবনে সংবাদ সম্মেলনে ট্রেনের টিকেটের তথ্যটি প্রকাশ করেন মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

ট্রেনের টিকিট রেজিস্ট্রেশন করার জন্য সর্বপ্রথম রেলওয়ে সেবা অ্যাপস অথবা ওয়েবসাইটে একাউন্ট সাইন আপ করতে হবে। আর আগে একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে Username এবং Password দিয়ে একাউন্ট লগইন করুন।

ওয়েবসাইটে ট্রেনের টিকিট রেজিস্ট্রেশন

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট রেজিস্ট্রেশন করার জন্য প্রথমেই আপনার মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে ডাটা সংযোগ চালু করুন। এরপর মোবাইল কিংবা কম্পিউটার থেকে যেকোনো একটি ব্রাউজার ওপেন করুন এবং সার্চ অপশনে Train ticket bd লিখে সার্চ করুন।

এখন সার্চ রেজাল্টে আসা প্রথম ওয়েবসাইট অর্থাৎ, “বাংলাদেশের রেলওয়ে” ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর সেখানে আপনার নাম, ইমেইল এড্রেস, মোবাইল নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন।

অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করার পরে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার দিয়ে একাউন্টের প্রোফাইলটি সম্পন্ন করতে হবে। যখনি আপনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট হবে। তখন আপনি ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন।

অ্যাপ থেকে ট্রেনের টিকিট রেজিস্ট্রেশন

বর্তমান সময়ে আপনি খুব সহজেই অ্যাপসের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। অ্যাপসের মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আপনার মোবাইলে “Rail Sheba app”টি install করুন। ‌

যখনি অ্যাপসটি সম্পূর্ণ ইনস্টল হয়ে যাবে। তখন “Sign Up” অপশনে ক্লিক করে নাম, ইমেইল এড্রেস, ফোন নাম্বার এবং একাউন্টের পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হলে ইমেইলে ভেরিফিকেশন লিংক আসবে। সেই লিংকে ক্লিক করে একাউন্টটি এক্টিভ করুন।

লোকাল ট্রেনের টিকিট কাটার অ্যাপস

বাংলাদেশের লোকাল অথবা আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য বাংলাদেশের জনপ্রিয় রেলওয়ের অফিসিয়াল অ্যাপস “Rail Sheba” (রেল সেবা) সবচেয়ে ভালো এবং জনপ্রিয়। এখানে নির্ভয়ে ট্রেনের টিকেট কাটা যায়।

বাংলাদেশের লোকাল ট্রেনের টিকিট কাটার জনপ্রিয় অ্যাপস অথবা ওয়েবসাইট নেই। তবে মনে রাখবেন: বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীদের শুধুমাত্র রেলওয়ের অফিসিয়াল “Rail Sheba” অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইট ব্যবহার টিকিট ক্রয় করতে বলা হয়েছে, অন্য অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট ক্রয় করলে প্রতারণার স্বীকার হতে পারেন। তাই সতর্কতা অবলম্বন করুন।‌

অ্যাপস দিয়ে ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করার নিয়ম

অ্যাপসের মাধ্যমে ট্রেনের কাটা টিকিট খুব সহজেই ক্যানসেল করতে পারবেন। নিচে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দেখানো হলো:

  • প্রথমে কাঙ্ক্ষিত অ্যাপসে লগইন করুন।
  • তারপর “My Tickets/Purchase History” অপশনে প্রবেশ করুন।
  • এখন আপনি যে টিকেটটি ক্যানসেল করবেন। সেই টিকেটটি সিলেক্ট করে “Cancel Ticket” বাটনে ক্লিক করুন।
  • এখন আপনার মোবাইল নাম্বারে OTP আসবে। সেই ওটিপি কোডটি বসিয়ে দিন এবং
  • তাহলে আপনার ট্রেনের টিকেটটি ক্যান্সেল হয়ে যাবে এবং রিফান্ড প্রসেস শুরু হবে।

টাকা ফেরত (রিফান্ড) পাওয়ার নিয়ম

আপনার ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল হওয়ার পরে টাকা ফেরত পাবেন। আপনি যে পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে ট্রেনের টিকিটের পেমেন্ট করেছিলেন। সেই পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে কাঙ্খিত টাকাটি ফেরত পাবেন। যেমন: বিকাশ/ রকেট/নগদ/কার্ড ইত্যাদি।

তবে টিকেট ক্যানসেল হওয়ার (রিফান্ড) ফেরত পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। আপনি যদি মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে ট্রেনের টিকিটের টাকা পেমেন্ট করেন। তাহলে টাকাটি ফেরত পেতে ৩–৫ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর কার্ডের ক্ষেত্রে টাকাটি ফেরত পেতে আরও কয়েকদিন বেশি সময় লাগতে পারে।

ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল চার্জ সমুহ

আপনি কত সময়ের মধ্যে ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করেছেন সেটির উপর নির্ভর করে ট্রেনের টিকিট ক্যানসেলের চার্জ প্রযোজ্য হয়। যেমন:

  • ট্রেনের টিকেটটি ক্যানসেল করতে ৪৮ ঘন্টার বেশি সময় পার হয়ে যায়। তাহলে ৪০ টাকা অথবা ১০% চার্জ প্রযোজ্য হয়।
  • আপনি যদি ২৪/৪৮ ঘন্টার আগে টিকিটটি ক্যানসেল করেন। তাহলে টিকেট চার্জ ৪০ টাকা বা ২৫ শতাংশ।
  • ১২/২৪ ঘন্টা আগে টিকেট ক্যান্সেল করলে চার্জ ৪০ টাকা বা ৫০% প্রযোজ্য হবে।
  • আর ৬/১২ ঘন্টা আগে টিকেট ক্যানসেল করলে টিকেট চার্জ ৪০ টাকা বা ৭৫ শতাংশ প্রযোজ্য হবে এবং
  • ৬ ঘন্টার কম সময়ের মধ্যে ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করলে সেক্ষেত্রে কোনো রিফান্ড নেই।

কাউন্টার থেকে কাটা টিকিট ক্যানসেল

আপনি যদি সরাসরি স্টেশন থেকে ট্রেনের টিকিট ক্রয় করেন। তাহলে সেটি অনলাইনের মাধ্যমে ক্যান্সেল করতে পারবেন না। আপনি যে স্টেশন থেকে টিকিটটি ক্রয় করেছেন। সরাসরি সেই স্টেশন গিয়ে অথবা মোবাইলে কাউন্টারের লোকদের সাথে কথা বলে টিকিটটি ক্যান্সেল করতে পারবেন।

কখন টিকিট ক্যানসেল করা যাবে না?

যে অবস্থায় আপনি চাইলেও ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করতে পারবেন না। সেটি নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ট্রেনের ছাড়ার ৬ ঘন্টা আগে ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করতে পারবেন না।
  • ট্রেনেরটি ছেড়ে দিলে আর টিকেটটি ক্যানসেল হয়না এবং
  • টিকেটটি একবার ব্যবহার করা হয়ে গেলে ফেরত দিতে পারবেন না।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সময়সূচি

আপনি যদি অনলাইনের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট কাটেন। তাহলে আপনার টিকিটের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সময়টি দেখতে পাবেন। অনলাইনে প্রতিদিন টিকেট কাটার সময় সকাল ৮:০০ টা থেকে রাত ১১:৫৯ টা পর্যন্ত।

আর অনলাইনে রাত ১২টা থেকে শুরু করে সকাল ৮টা পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। আপনি উপরে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে টিকিট বুকিং করতে পারবেন।

কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট কাটার সময়সূচি

সাধারণত কাউন্টারে সকাল ৭:০০টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত টিকিট কাটা হয়। তবে কিছু কিছু কাউন্টারে তার বেশি কিংবা কম সময় টিকেট বুকিং করা হয়।

ঢাকা স্টেশন থেকে সকাল ৬:৩০ টা থেকে রাত ১০:৩০ টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হয়। আর লোকাল ট্রেন টিকিটের ক্ষেত্রে ট্রেন ছাড়ার কয়েক ঘন্টা আগে টিকেট বুকিং করা হয়।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম FAQ:

  • প্রশ্ন: আমার একাউন্ট থেকে অন্যকারো নামে ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে কিনা?
  • উত্তর: হ্যাঁ, পারবেন। 
  • প্রশ্ন: একটি nid দিয়ে কতটি একাউন্ট করা যাবে? 
  • উত্তর: একটি nid সুধু মাত্র একটি একাউন্ট তৈরি করা যাবে।
  • প্রশ্ন: এক সাথে কতটি টিকিট কাটা যাবে?
  • উত্তর: আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ১/২/৩ বেশি সিট কাটতে পারবেন। 
  • প্রশ্ন: আমার NID নেই তাহলে কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করব?
  • উত্তর: যাদের NID নেই তারা পরিবারের অন্যকোন সদস্যের nid দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
  • প্রশ্ন: অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে কি কি লাগবে?
  • উত্তর: অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য জন্ম/ভোটার আইডি কার্ড, মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল এড্রেস।
  • প্রশ্ন: অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার বিশ্বস্ত অ্যাপস কোনটি?
  • উত্তর: রেলসেবা
  • প্রশ্ন: ট্রেনের টিকিট কাটার ওয়েবসাইট‌ কি?
  • উত্তর: ট্রেনের টিকিট কাটার ওয়েবসাইট‌ হলো https://eticket.railway.gov.bd/
  • প্রশ্ন: ট্রেনের টিকিট কাটার অ্যাপস কোনটি?
  • উত্তর: ট্রেনের টিকিট কাটা অ্যাপসের নাম Rail Sheba

Leave a Reply

Discover more from বঙ্গভাষা

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading