মাইক্রোটাস্ক করে ইনকাম করুন। আপনারা যারা স্টুডেন্ট আছেন, গৃহিণী আছেন অথবা পার্ট টাইম কাজ করে ইনকাম করতে চান। তারা চাইলে মোবাইলে ছোট ছোট মাইক্রোটাস্ক করে ইনকাম করতে পারবেন। নিচে মাইক্রোটাস্ক কি, কিভাবে মাইক্রোটাস্ক করে ইনকাম করবেন সম্পূর্ণ পদ্ধতি শেয়ার করা হলো।
মাইক্রোটাস্ক কী?
মাইক্রোটাস্ক হলো অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট কাজ করে আয় করার সহজ উপায়। ধরুন যেকোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশন টেস্ট করে তার সমস্যা খুঁজে বের করা। ক্লাইন্টের নিদর্শন অনুযায়ী ক্যাপচা পূরণ করা, ভিডিও দেখা, ডাটা এন্ট্রি করা ইত্যাদিকে মাইক্রোটাস্ক বলা হয়।
মাইক্রোটাস্ক এর মতোই আরেকটি অনলাইন ভিত্তিক কাজ হলো সার্ভে। বিশ্বের ভিবিন্ন কম্পানি নতুন কোন প্রডাক্ট মার্কেটে নিয়ে আসার জন্য আগে থেকে ঐ প্রডাক্ট সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের মতামত নিয়ে থাকে যা সার্ভে নামে পরিচিত। মূলত এই দুই ধরনেরর কাজ করে কোন প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়াই। হাতা থাকা মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা সম্ভব।
মাইক্রো টাস্কে যে কাজগুলো করতে হয়
- অ্যাপ বা ওয়েবসাইট টেস্ট করা
- প্রোডাক্ট বিশ্লেষণ করা
- ডাটা এন্ট্রি করা
- ক্যাপচা পূরণ করা
- ছবি বা ভিডিও দেখে মতামত দেওয়া
- সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের সাপোর্ট করা
- প্রশ্নের উত্তর দেওয়া
- ফরম পূরণ করা
- ইমেইল ভেরিফিকেশন করা
- ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা ইত্যাদি
মাইক্রো টাস্ক অথবা সার্ভে করতে বিনিয়োগ করা লাগে?
না। মাইক্রোটাস্ক অথবা সার্ভে কাজ করার জন্য কোন প্রকার বিনিয়োগ করার প্রয়োজন নেই। তবে এই কাজগুলো করার জন্য অবশ্যই আপনার কাছে যেকোনো একটি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, ডেক্সটপ অথবা পিসি থাকতে হবে। একই সাথে এগুলো যেহেতু অনলাইন ভিত্তিক কাজ সেহেতু আপনার একটি ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে।
আরোও পড়ুন: ফ্রি টাকা ইনকাম অ্যাপ | বিশ্বস্ত ৭ টি ইনকাম Apps থেকে আয় করুন ২০২৫
আপনি চাইলে মোবাইলের ডাটা অথবা ওয়াইফাই ব্যবহার করে কাজগুলো খুব সহজে করতে পারবেন। তবে ওয়াইফাই হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয় এতে করে কম খরচে ভালো আয় করা যায়।
মাইক্রোটাস্ক করার বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম
মনে রাখবেন মাইক্রোটাস্ক অথবা সার্ভে এই ধরনের কাজ করার জন্য একটি বিশ্বস্ত অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইটের প্রয়োজন। অন্যথায় আপনি কাজ করে প্রতারিত হবেন। তাই প্রতারক থেকে দূরে থাকুন এবং বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় প্লাটফর্মে কাজ করুন।
- Microworkers
- Clickworker
- Ramotasks
- Rapidworkers
- Amazon MTurk
- Ysense
- TimeBucks
- Hive
- Taskon
- Picoworkers
- SproutGigs
- Freecash
- Toloka
উপরোক্ত ওয়েবসাইট ও অ্যাপ গুলো ছাড়াও বাংলাদেশি জনপ্রিয় একটি মাইক্রোটাস্ক ওয়েবসাইট হলো workupjobs। তবে এছাড়াও আপনারা চাইলে Fiverr, Upwork, Peopleperhour, Freelancer এর মতো ইত্যাদি বড় বড় ওয়েবসাইটে ডাটা এন্ট্রি কাজ করে আয় করতে পারবেন।
কিভাবে মাইক্রো টাস্ক শুরু করবেন
মাইক্রোটাস্ক বা সার্ভে কাজ শুরু করার জন্য প্রথমেই আপনাকে সহজ ইন্টারফেস, ইজি পেমেন্ট মেথড ও বাংলাদেশীদের জন্য প্রযোজ্য ছোট ছোট ওয়েবসাইট বেছে নেওয়া ভালো।
এতে করে সহজে ওয়েবসাইট গুলোর কাজ বুঝতে পারবেন এবং কম প্রতিযোগী মূলক ওয়েবসাইট হওয়ায় অনেক বেশি কাজ করতে পারবেন। তবে আপনি যদি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে শুরুতে বাংলাদেশে কোন ওয়েবসাইটে কাজ করতে পারেন।
এতে করে আপনি সহজেই কাজগুলো বুঝতে পারবেন এবং বিকাশ, রকেট বা নগদ পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। যা আপনার কাজ করার আগ্রহকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দিবে।
এখন মাইক্রোটাস্ক শুরু করার জন্য প্রথমে একটি বা দুটি ওয়েবসাইট বেছে নিন। তারপর সেখানে তাদের নিয়ম মেনে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর বা জিমেইল দিয়ে একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন।
অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশনের পর সেটি ভেরিফিকেশন করুন। বর্তমানে অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেখানে আপনাকে KYC ভেরিফিকেশন করতে হতে পারে। KYC ভেরিফিকেশন হলো আপনার জন্ম সনদ, এনআইডি অথবা পাসপোর্ট এর দ্বারা এড্রেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা।
তাই এই ধরনের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট করার ক্ষেত্রে আপনার অরজিনাল নাম এড্রেস বা অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করুন। অন্যথায় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন বাতিল হতে পারে এবং আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কিভাবে মাইক্রো টাস্ক সম্পন্ন করবেন
আপনার তথ্য দিয়ে একাউন্ট রেজিস্ট্রেশনের পর ওয়েবসাইটের হোম পেজে অথবা মেনু অপশনে আপনি কাজ করার ড্যাশবোর্ড পেয়ে যাবেন। সেখানে ওয়েবসাইটের যাবতীয় টাস্ক গুলো পেয়ে যাবেন। এখন আপনার যেই কাজটি ভালো লাগে বা যেটি আপনি সহজে বুঝতে পারেন সেটিতে প্রবেশ করুন।
তারপর ক্লাইন্টের নিদর্শন অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করুন। এবং ক্লাইন্ট কাজের পরিপ্রেক্ষিতে যে সকল প্রমাণাদি চেয়েছেন সেগুলো সঠিকভাবে জমা করুন। তারপর সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার কাজটি ক্লায়েন্ট এর কাছে সাবমিট করুন।
তারপর ক্লাইন্ট আপনার কাজটি দেখবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলেই আপনাকে পেমেন্ট করে দেবে যদি সরাসরি আপনার ওয়ালেটে এসে জমা হবে। এভাবে কাজ করার মাধ্যমে আপনার ওয়ালেটে পর্যাপ্ত টাকা হলে আপনি সেটি সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্ট, Payoneer, PayPal বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদিতে উত্তোলন করতে পারবেন।
ডাটা এন্ট্রি কাজ যেভাবে করা হয়
আমাদের মধ্যে অনেকেই ডাটা এন্ট্রি সম্পর্কে বেশি আগ্ৰহ দেখায়। তাই আপনাদের সুবিধার্থে ডাটা এন্ট্রি কাজ কি এবং কিভাবে করতে হয় এ বিষয়ে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।
ডাটা এন্ট্রি কাজ হল। ধরুন একজন ক্লায়েন্ট হাতে লেখা কিছু কাগজপত্র বা ডকুমেন্ট আপনাকে দিলো এবং বলল তার এই হাতে লেখা ডকুমেন্টগুলো আপনি দেখে দেখে হুবহুভাবে Docs বা Excel যেকোনো ফাইলে তুলে দিতে। সাধারণত এটি হলো ডাটা এন্ট্রি।
আবার অনেক সময় অনেক ক্লাইন্ট বিভিন্ন ব্যক্তিদের জিমেইল কন্টাক্ট নম্বর ইত্যাদি সংগ্রহ করে থাকে। যেটি ও ডাটা এন্ট্রির একটি অংশ। আশাকরি, বুঝতে পেরেছি কিভাবে মাইক্রো টাস্ক করে ইনকাম করবেন।


মাইক্রো টাস্ক অথবা সার্ভে করতে বিনিয়োগ করা লাগে?