আসছে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বাংলা বর্ষপঞ্জি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৭ই ফাল্গুন (১৪৩২ বঙ্গাব্দ) হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১লা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজ বৃহস্পতিবার শুরু হতে পারে পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম রোজা। যদিও রমজানের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে এক দিন এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে।
তবে ইতিমধ্যেই মুসলমানদের নিকটে রমজান নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। তারা পবিত্র মাহে রমজান আসার পূর্বেই ইফতারের দোয়া ও বাংলা অর্থ এবং এর ফজিলত ও তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চান। তাই এই পোস্টে আমরা ইফতারের দোয়া ও বাংলা অর্থ এবং এর ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ইফতারের আরবি দোয়া:-
بِسْمِ الله – اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
ইফতারের দোয়া বাংলা অনুবাদ:
আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।
ইফতারের দোয়া বাংলা অর্থ :
অর্থ : আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই আমি রোজা রেখেছি এবং আপনার দান করা রিজিকের মাধ্যমেই আমি ইফতার করছি। (মিশকাত, আবু দাউদ মুরসাল)
বিশুদ্ধ সুন্নাহসম্মত ইফতারের দোয়া
ডাঃ জাকির নায়েক, মিজানুর রহমান আজহারী ও অন্যান্য আলেমদের মতে ইফতারের সময় সবচেয়ে বিশুদ্ধ সুন্নাহসম্মত দোয়াটি হলো-
ইফতারের আরবি দোয়া:
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
বাংলা উচ্চারণ: যাহাবাজ জামা’উ ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
বাংলা অর্থ: আমার পিপাসা মিটে গেছে, ধমনী আদ্র হয়েছে এবং পুরস্কার খুব কাছেই যদি আল্লাহ চান (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৭)
ইফতারের দোয়ার ব্যাখ্যা:
এই হাদিসের ব্যাখ্যায়: ডাঃ জাকির নায়েক বলেন: এই হাদিসের অর্থ আমার পিপাসা মিটে গেছে। ধমনী আদ্র হয়েছে।
আমরা জানি সাধারণত পানি পান করার পর পিপাসা মিটে যায়। তারমানে এই দোয়াটি রাসূলুল্লাহ (সা:) ইফতারের পরে পাঠ করতে আগে নয়। তাই সর্বসম্মতিক্রমে ইফতারের দোয়া ইফতারের পরে বা মাঝে পড়তে হয়।
ইফতারের দোয়ার ফজিল
ইফতারের দোয়ার অনেক ফজিলত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিভিন্ন হাদিসে ইফতারের সময় দোয়া করার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন।
যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ইফতারের আগে আল্লাহ তা’আলা দোয়া কবুল করেন। আল্লাহ তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেন না।
- ন্যায়পরায়ণ শাসক
- রোজাদার যখন সে ইফতার করে
- অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৭৫২)
এছাড়াও রাসুলুল্লাহ সাঃ প্রত্যেক ভালো কাজের পর আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সেই হিসেবে রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই ইফতারের সময় আল্লাহর কাছে নিজের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করা এবং আল্লাহর নিকট দোয়া বা আশ্রয় প্রার্থনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
ইফতারে কি খাবেন
বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় কাঁচা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না পেতেন তাহলে শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। অথবা শুকনো খেজুর না পেলে পানি ধারা ইফতার করতেন। (তিরমিজি; রোজা অধ্যায় : ৬৩২)
ইফতারের সময় গুরুত্বপূর্ণ আমল সমূহ
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেকগুলো সুন্নত আমল রয়েছে যেগুলো আমরা ইফতারের সময় করতে পারি।
- অযু বা পবিত্র হয়ে ইফতারে বসা
- দুরুতে ইব্রাহিম পড়া
- আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
- ইফতার কিছুটা খেয়ে বা শেষ করে ইফতারের দোয়া পড়া
- খেজুর ও পানি দিয়ে বিসমিল্লাহ বলে ইফতার শুরু করা।
- ইফতারের মাঝে মাঝে মাগরিবের আজানের জবাব দেয়া বা দোয়া পড়া।
ইফতারের পূর্বে অন্যান্য দোয়া সমূহ
ইফতারের সময় যেহেতু দোয়া কবুলের সময় তাই এই সময় আমরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আল্লাহর নিকট কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া করতে পারি। যেমন:
জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া:
কমপক্ষে ৭ বার পড়া:
اللَّهُمَّ أَجِرْنِى مِنَ النَّارِ
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার। (বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন।)
এখানে আজিরনি মিনান নার এর স্থলে (আজিরনা মিনান নার) পড়া যেতে পারে। আজিরনি এক বচন অর্থাৎ আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন। আর আজিরনা বহু বচন যার অর্থ আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন।
মৃত বাবা মায়ের জন্য দোয়া:
رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা। ‘ অর্থ : (হে আমাদের) পালনকর্তা! তাদের (বাবা- মা) উভয়ের প্রতি আপনার রহম এবং করুনা করুন; যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন। ‘ (সূরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৪)
নেক সন্তান লাভের দোয়া
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
“রাব্বি হাবলি মিনাস সালেহীন” হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমন এক সন্তান দান করুন, যে সৎকর্মশীল ও আল্লাহভীরু হবে।
এটি হলো পবিত্র কুরআনে বর্ণিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী একটি দোয়া, যা সৎকর্মশীল বা নেককার সন্তান লাভের আশায় হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর কাছে করেছিলেন। (সূরা আস-সাফফাতের ১০০)
মেধা/জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া
১) رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
‘রাব্বি যিদনী ইলমা’ অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো।’ (সুরা তোয়াহা: ১১৪)
২) رَبِّ ٱشْرَحْ لِى صَدْرِى وَيَسِّرْ لِىٓ أَمْرِى وَٱحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِى يَفْقَهُوا۟ قَوْلِى
‘রব্বিশ রাহলী সদরী ওয়া ইসসিরলী আমরী, ওয়াহলুল ওক্বদাতাম মিল লিসানী ইয়াফক্বাহূ ক্বওলী’ অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার অন্তর প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন— যাতে মানুষ আমার কথা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে।’ (সুরা তোয়াহা: ২৫-২৮)
বিবাহের দোয়া
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইউন, ওয়া জাআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের এমন জীবনসঙ্গী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন, যারা আমাদের হৃদয়ের প্রশান্তির কারণ হবে। আমাদের আল্লাহভীরুদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’ (সুরা: ফুরকান, আয়াত: ৭৪)
আরোও পড়ুন:ইসলামিক স্ট্যাটাস: ৫০০+ ইসলামিক ফেসবুক ক্যাপশন 2025
রিন মুক্তির দোয়া
اللهم اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عن حَرَامِكَ ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাকফিনি বি হালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।
অর্থ : হে আল্লাহ! হারাম থেকে দূরে রেখে তোমার হালাল রিজিকই আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও। তোমার অনুগ্রহে আমাকে স্বাবলম্বী করে দাও এবং তোমাকে ছাড়া অন্য কারও ওপর নির্ভরশীল হওয়া থেকে আমাকে মুক্ত রাখো। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৬৩; মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ১৩২১)
Disclaimer: এখানে উল্লেখিত কোরআনের আয়াত, অনুবাদ ও বাংলা অর্থ বিভিন্ন সোর্স থেকে সংগ্রহীত। এগুলো শুধুমাত্র আপনাদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো।

