ফেলে দেওয়া মাছের মাথায় মিলছে কোটি টাকার সম্পদ!

নিউজ ডেস্ক বঙ্গভাষা: প্রতিদিন মাছের বাজারে ফেলে দেওয়া হয় মাছের আঁশ ও নাড়িভুঁড়িসহ নানা বর্জ্য।‌ কিন্তু কেউ কি কখনো ভেবে দেখেছে, ফেলে দেওয়া এই অংশেই লুকিয়ে রয়েছে কোটি টাকার সম্পদ!

একটি সাধারণ মাছের মাথা যা বেশিরভাগ সময় অবহেলিত। কিন্তু তার ভিতরে লুকিয়ে আছে মূল্যবান সম্পদ। যা বদলে দিতে পারে দেশের মুদ্রা খাতের ভাগ্য যা শুনলে চোখ কপালে উঠবে যে কারো।

সাম্প্রতিক যশোরের তরুণ উদ্যোক্তা নেওয়াজ শরীফ মাছের মাথার পিছনের অংশ থেকে আবিষ্কার করেছে ছোট্ট সরিষাধানার মতো সাদা পিটুইটারি গ্লান্ড (পিজি) বা প্রাকৃতিক হরমোন। যার প্রতি কেজি বিশ্ব বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা।

মৎসবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি শেষে চাকরির পিছে না ছুটে এমন অভিনব পেশা বেছে নিয়েছেন নেওয়াজ শরীফ। জেলার চৌগাছাতে ল্যাব স্থাপন করে বিভিন্ন মাছ বাজারের মাছ কাটা শ্রমিকদের দিয়ে ৪ টাকা প্রতি পিস ধরে সংগ্রহ করেন মাছের মাথার মধ্যে থাকা মূল্যবান পিজি।

তারপর সেগুলোকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করার উপযোগী করে তোলেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি জানান “বর্তমানে দেশে মাছের মাথার পিজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যা পূরণ করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

মূলত প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন কমে যাওয়ায়, হ্যাচারি গুলোতে মাছের কৃত্রিম প্রজননের জন্য ব্যবহার করা হয় পিটুইটারি গ্লান্ড। এই গ্লান্ড দিয়ে তৈরি ইনজেকশন মাছকে ডিম ছাড়তে উৎসাহিত করে। যা মৎস্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাতে পারে।

ইতিমধ্যেই মাছের মাথা থেকে পিজি সংগ্রহের জন্য মাছ কাটা শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। প্রশিক্ষণের ফলে মাছ কাটা শ্রমিকদের দৈনন্দিন আয়ের পাশাপাশি পিজি বিক্রি করে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সঠিক প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যোগ করতে পারে নতুন মাত্রা। যা দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানিরও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

Discover more from বঙ্গভাষা

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading