পুষ্টিবিদের মতে রোজা রাখার ৭টি উপকারিতা

রোজা শুধুমাত্র মুসলমানদের ধার্মিক ইবাদত নয়। বরং, এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এমনটাই ধারণা করেন পুষ্টিবিদরা। নিয়মিত রোজা রাখার ফলে শরীরের ক্ষতি নয় বরং বিভিন্নভাবে উন্নতি সাধিত হয়, মানসিক শান্তি এবং হজম শক্তি বাড়তে সাহায্য করে।

পাশাপাশি রোজা মানুষের মন এবং স্বাস্থ্য দুটোকেই নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই বিভিন্ন পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক নিয়মে রোজা পালন করলে মানুষের মনের পাশাপাশি শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিচে পুষ্টিবিদের মতে রোজা রাখার ৭টি উপকারিতার কথা আলোচনা করা হলো:

পুষ্টিবিদের মতে রোজা রাখার ৭টি উপকারিতার

পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত এবং নাজাতের মাস। রমজান মাসের মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজেকে বিভিন্ন উপায়ে পরিশুদ্ধ এবং পরিবর্তন করতে পারে। আমরা যদি একটু খেয়াল করি। তাহলে বুঝতে পারবো।

সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য কোন কিছু নির্ধারিত করেছেন। তার প্রত্যেকটি জিনিসই আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। যেমন: মুসলমানদের জন্য সৃষ্টিকর্তা নামাজ নির্ধারণ করেছেন। আর নামাজের বেশ উপকারিতা রয়েছে।

একজন মুসলমান পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার মাধ্যমে তার ইবাদাতের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন ব্যায়াম হয়। রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, মস্তিষ্ক বিকশিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন উপকার হয়। তেমনি রোজার ও ফজিলতের পাশাপাশি উপকারিতা রয়েছে।

পুষ্টিবিদরা মনে করেন রোজা ইবাদাতের পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ এবং স্বতেজ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও রোজা রাখার ফলে মন এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে। জাপানের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলেন ‘রমজানের রোজা রাখার ফলে মানুষের দেহের অটোফিজি বৃদ্ধি পায়’

অটোফিজি হলো: দীর্ঘদিন ধরে একই নিয়মে খাবার খাওয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন উপকারী কোষ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ করে রমজানের এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীরের সেই মৃত কোষগুলো আবারো পুনঃজীবিত হয়। যা তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়ক।

এছাড়াও রমজানে আরেকটি উপকার হলো আমাদের ভিতরে যাদের শরীরে অনেক বেশি ফ্যাট (চর্বি) রয়েছে। রমজান মাসে সেই ফ্যাট বা চর্বি অনেক কমতে থাকে। অর্থাৎ, রোজা মানুষের শরীরের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। আবার রোজা রাখার ফলে মানুষের শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়তে সাহায্য করে।

সাধারণত মানুষের শরীরে দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। যেমন:

  1. উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং
  2. অপকারী ব্যাকটেরিয়া

অপকারী ব্যাকটেরিয়ার কারণে মানুষের পেটে ব্যথা, গ্যাস, বুক জ্বালাপোড়া করা এবং পেট খারাপ ইত্যাদি সমস্যা হয়। একজন মানুষ সারাদিন যে খাবারগুলো খায়। সেই খাবার গুলো হজম হওয়ার আগেই শরীরে অপকারী ব্যাকটেরিয়ার তৈরি হয়।

কিন্তু যখন একজন মানুষ রোজা রাখে, তখন শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি পেতে থাকে। পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। যা শরীরের হজম শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়াও যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে। নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয়। রক্তে সুগারের পরিমাণ কমাতে পারছেন না। তাদের জন্য রোজা একটি সেরা বিকল্প। কারন রোজা রক্তের সুগারের পরিমাণ কমিয়ে রাখাতে সাহায্য করে।

অনেক গবেষণায় এসেছে রমজানের রোজা রাখার ফলে মানুষের রক্তে সুগারের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। মানুষের শরীরে অনেক ধরনের কোলেস্টেরল রয়েছে। এর মধ্যে খারাপ কোলেস্টেরল এবং এলডিএল কোলেস্টেরল রয়েছে।

বিভিন্ন খাবার থেকে মানুষের শরীরে অটোমেটিক কোলেস্টেরল তৈরি হয়। যখন কোন ব্যক্তি রোজা রাখে। তখন সেই ব্যক্তির শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসে। যখন একজন ব্যাক্তির শরীরে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকে। তখন সেই ব্যক্তির শরীরে অরগান সেফ হয়ে যায়। যেমন: হার্ট এবং ব্রেণ ইত্যাদি।

সুতরাং, একজন মুসলমানের কাছে রোজা যেমন ফজিলত রয়েছে। তেমনি শরীরের ও বেশ উপকারিতা রয়েছে। এছাড়াও রোজা রাখার ফলে মানুষের পেশার স্বাভাবিক থাকে। তাই রমজানের রোজা রাখার ফলে শরীর এবং স্বাস্থ্য দুটোকেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Discover more from বঙ্গভাষা

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading