আজকাল বড় বড় হাসপাতাল, শপিং মল, গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি ও বাসাবাড়ি সহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে লিফট। কোন রকম সিঁড়ি ভাঙ্গার ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌছাতে অনেকেই লিফট ব্যবহার করে থাকেন।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, লিফটে চলাচলের সময় হঠাৎ আটকা পড়লে কি করবেন? এ সময় আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বুঝে উঠতে পারেন না কি করবেন। এমন পরিস্থিতিতে গাবড়ে না গিয়ে যা করনীয় ও বর্জনীয় চলুন দেখে নেওয়া যাক।
যদি কখনো হঠাৎ লিফটে আটকে পড়েন। তখন আতঙ্কিত না হয়ে নিজেকে শান্ত রাখুন। একা একা ভয় পেলে হাতে থাকা স্মার্টফোনের ফ্লাসলাইট জ্বালিয়ে নিন। মনকে স্থির রাখতে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যাকে উল্টো করে পড়ার চেষ্টা করুন। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন এটি আপনার মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেবে এবং আপনাকে স্থির থাকতে সাহায্য করবে।
তারপর লিফটে থাকা বাটন গুলোর মধ্যে যদি তীর চিহ্নযুক্ত কোন বাটন প্রেস করে লিফটের দরজা খোলা যায় তাহলে সেটি চেষ্টা করুন। যদি দরজা খুলে যায় তাড়াহুড়া করে নামতে যাবেন না। প্রথমে দেখুন আপনার লিফটি কোন পজিশনে রয়েছে। যদি এটি কোন সমতল ফ্লোরে থাকে তাহলে নিশ্চিন্তে নেমে পড়ুন।
আর যদি দেখেন এটি দুটি ফ্লোরের মাঝামাঝি অবস্থান করছে। তাহলে লিফটের ভিতরে অবস্থান করুন। কারণ এই সময় তাড়াহুড়া করলে আপনার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
যদি লিফটের দরজা খুলতে ব্যর্থ হোন। তাহলে বাটন বোর্ডের সাথে থাকা এলার্ম বাটনে প্রেস করুন এবং লিফটে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাহায্যের অপেক্ষা করুন।
বর্তমানে অনেক আধুনিক লিফটে ইন্টারকাম বা স্পিকার সিস্টেম থাকে। যেটি ব্যবহার করে আপনি অন্যদের সাহায্যের জন্য ডাকতে পারেন। যদি বুঝতে পারেন আপনি নির্দিষ্ট কোন তলায় আটকে আছেন। তাহলে দরজায় জোর করে নক করে দেখতে পারেন। এতে করে কেউ যদি বাইরে থেকে আপনার আওয়াজ বুঝতে পারে। তাহলে আপনাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসতে পারে।
লিফটে প্রবেশ বা বাহির হওয়ার সময়। যদি হঠাৎ লোডশেডিং হয়। কখনো হাত বা পা দিয়ে লিফটের দরজা খুলতে চেষ্টা করবেন না। যদিও লিফটে সেন্সর সিস্টেম থাকে। কিন্তু সেন্সর সিস্টেম যদি ব্যর্থ হয়। তাহলে আপনি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই এই বিষয়টি এড়িয়ে চলাই ভালো।
এছাড়াও ছোট বাচ্চা বা বয়স্ক ব্যক্তি যারা লিফট ব্যবহারে অভ্যস্ত না। এমন ব্যক্তিদের একা একা লিফট ব্যবহার করতে দিবেন না। এতে তার কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়লে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে না।
আজকাল প্রায় সব লিফটেই অটোমেটিক রেসকিউ ডিভাইস থাকে। যার কাজ হলো লিফট বন্ধ হয়ে গেলেও নির্দিষ্ট একটি তলায় গিয়ে অটোমেটিক দরজা খুলে দেয়া।
তবে সর্বদায় মনে রাখবেন। হঠাৎ করে কখনো লিফট বন্ধ হয়ে গেলে। লিফটের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা সবার আগে লিফটে কেউ আটকা পড়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করে। তারপর আটকে পড়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করার সবোর্চ্চ চেষ্টা করে। তাই লিফটে আটকে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেকে স্থির রাখুন। অন্যদের সাহায্যের অপেক্ষা করুন।
নিউজ ডেস্ক: শেখ আব্দুর চৌধুরী ইমন (বঙ্গভাষা)

