ফেলে দেওয়া ডিমের খোসা বদলে দিলো হাজারো পরিবারের জীবন

ডিমের খোসা আমাদের অনেকের কাছে শুধু একটি বর্জ মাত্র। ডিম সংগ্রহের পর খোসাকে আমার নোংরা নর্দমা বা ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দি। অথচ এই ফেলে দেওয়া খোসা ভাগ্য ফেরালো হাজারো পরিবারের। শুনতে কথাটি অবিশ্বাস্যকর মনে হলেও এমনটাই ঘটেছে পৃথিবীর মানচিত্রে থাকা উগান্ডার শহরতলী গ্ৰাম কিতিজিতে।

উগান্ডার তরুণ উদ্যোক্তা গোটফ্রে সেনগজ্ঞিও ফেলে দেওয়া এই ডিমের খোসাকে রূপ দিয়েছেন অসাধারণ এক সৃষ্টিতে। যা রাতারাতি বদলে দিয়েছে হাজারো মানুষের জীবন।

তিনি ফেলে দেওয়া ডিমের খোসা সংগ্রহ করে সেগুলোকে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করেছেন শক্তিশালী, সাশ্রয় ও দৃষ্টিনন্দন মেঝের টাইলসে।

৩১ বছর বয়সী এই তরুণ উদ্যোক্তা বিজ্ঞান ও নির্মাণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। উগান্ডার মাকারেরি বিশ্ববিদ্যালয় কামপালা থেকে।

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার শহরতলী কিতিজিতে খুলেছেন একটি কারখানাও। সেখানে তৈরি করেন তার অভাবনীয় ডিমের খোসার টাইলস। যেখানে মানুষ চীন, ইতালি, তুরস্ক বা মিশর থেকে আমদানিকৃত দামি টাইলস ও সিরামিকসের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

সেখানে সেনগজ্ঞিও উদ্ভাবন করলেন এক অভাবনীয় বিকল্প। তার তৈরিকৃত টাইলসের মূল উপাদান সিমেন্ট হলেও এর সঙ্গে মিশানো হয় ফেলে দেওয়া ডিমের খোসা।

শুনতে অনেকের কাছে এটি অদ্ভুত লাগলেও সেনগজ্ঞিও জানান ডিমের খোসা টাইলসের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও ওজন কমাতে দারুন কার্যকরী। যেখানে সিমেন্টের টাইলস সাধারণত ভারী ও ব্যয়বহুল হয়ে থাকে। কিন্তু এর সাথে ডিমের খোসা যোগ করার ফলে এটি অনেক বেশি হালকা, মজবুত ও টেকসই হয়ে থাকে।

সেনগজ্ঞিওর তৈরিকৃত টাইলসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্রেতারা। তারা জানান এটি সাধারণ টাইলসের চেয়ে সাশ্রয় ও অনেকটা টেকসই। যা সহজে ভাঙে না। যার ফলে দিন দিন সেনগজ্ঞিওর তৈরিকৃত টাইলসের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে।

সেনগজ্ঞিওর কারখানায় টাইলসের পাশাপাশি ডিমের খোসা থেকে তৈরি হয় পরিবেশবান্ধব কাঠ কয়লাও। ফেসবুকের কল্যাণে তার টাইলসের সুনাম শুধু কিতিজিতে নয় ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই।

উগান্ডার মতো একটি দরিদ্র রাষ্ট্রের মানুষের যেখানে একটি বাড়ি বানানো বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে এই সাশ্রয়ী টাইলস বদলে দিতে পারে অসংখ্য মানুষের জীবন।

শেখ আব্দুর চৌধুরী ইমন (বঙ্গভাষা)

Discover more from বঙ্গভাষা

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading