আজান দিলেই রহস্যময় মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসে সাপ! ভোর রাতে শোনা যায় ওজুর শব্দ 

নিউজ ডেস্ক বঙ্গভাষা: ভোরের আযান দেওয়ার সাথে সাথেই মসজিদে আশেপাশ ঝোঁপঝাড় থেকে বেরিয়ে আসে সাপ। গভীর রাতে শোনা যায় ওজুর পানির শব্দ। তবে সেখানে কাউকেই ওজু করতে দেখা যায় না। আনুমানিক ২৭০ বছরের পুরানো এক গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে এমন অসংখ্য রহস্যময় ঘটনা।

২৭০ বছরের পুরনো এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পালসা থান্দার পাড়ায় মুঘল আমলের স্মৃতি বহন করা এই মসজিদটি। এই মসজিদটি ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে নির্মল এবং ২০২০ খ্রিস্টাব্দে পূর্ণ নির্মণ করা হয়েছে।

এই মসজিদকে ঘিরে বহুদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে নানান রহস্যময় ঘটনা। ইতিহাসের পাতায় ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। এক গম্বুজ বিশিষ্ট ছোট মসজিদটি দীর্ঘ সময় অতিক্রম করার পরেও ধরে রেখেছে তার পুরনো ঐতিহ্য এবং স্থাপতের ছাপ।

সময়ের সাথে সাথে মসজিদের চারপাশে পরিবর্তন আসলেও মসজিদটিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের নানান কৌতুহল। এছাড়াও আযানের সময় হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে মসজিদের আশেপাশে অনেক সাপ। কিন্তু আবারো আযান শেষ হওয়া মাত্রই অদৃশ্য হয়ে যায় সেইসব সাপ।

১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি দেখভাল করছেন আলী মৃধা নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানিয়েছেন এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন অনেকবার। এছাড়াও মসজিদের খাদেম আনসার আলী মৃধা এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছেন বলে জানান।

তিনি বলেন এই মসজিদে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটে। তিনি আরোও বলেন আযান দেওয়ার সময় বাহিরে অনেক সাপ ঘোরাঘুরি করলেও আজান শেষে অদৃশ্য হয়ে যায় সেইসব সাপ। মুঘল আমলের এই মসজিদটিতে সাপের উপস্থিতি ছাড়াও শোনা যায় মাঝে মাঝে গভীর রাতে ওযুর পানির শব্দ।

এ যেন একসঙ্গে বহু মানুষ অজু করছে। তবে কাছে গেলে কাউকে অজু করতে দেখা যায় না। শুধুমাত্র শোনা যায় টুপটাপ পানির শব্দ। প্রথমে মসজিদটির অলৌকিক ঘটনা শুনে অনেকেই ভয় পেলেও ধীরে ধীরে মসজিদটির অলৌকিক ঘটনার সাথে অভ্যস্ত করে নিয়েছে এলাকা বাসিরা।

মসজিদের খাদেম আরোও জানান মসজিদটির পাশে বড় বড় আম গাছ ছিল। তবে এলাকা বাসীরা যখন আম কুড়াতে মসজিদটির পাশে আসতো। তখন সেখানে কোন আম থাকত না। এছাড়াও শোনা যায় মসজিদটির মেহরাবের পাশে কেউ ঘুমাতে পারতো না।

কেউ যদি মসজিদটির মেহরাবের পাশে ঘুমাতো। তাহলে তাকে সকালে অন্য স্থানে পাওয়া যেত। এমনটাই দাবি করেন রুহুল কুদ্দুস মাষ্টার। তিনি বলেন আমার বাবা তরিফউদ্দিন মোল্লা ১৯৮২ সালে ১০০ বছর বয়সে মারা যান। রুহুল কুদ্দুস মাষ্টার তার পিতার মুখে মসজিদটির নানান রহস্যময় ঘটনা এবং এই মসজিদটিতে পাঁচ গ্ৰামের মানুষ এসে নামাজ আদায় করতো।

কতৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর একটাই দাবি ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটিকে যেন পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Discover more from বঙ্গভাষা

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading